×

মুক্তচিন্তা

মুজিবনগর সরকারের প্রাসঙ্গিকতা ও রাষ্ট্র-নির্মাণের দর্শন

Icon

ফেরদৌস আরেফীন

প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম

মুজিবনগর সরকারের প্রাসঙ্গিকতা ও রাষ্ট্র-নির্মাণের দর্শন

ছবি: কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে তৈরি

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী বর্বর ‘অপারেশন সার্চলাইট’ শুরু করে, গ্রেপ্তার করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। রাষ্ট্রহীন এক জাতি, বিধ্বস্ত একটি ভূখণ্ড—এই পরিস্থিতিতে কীভাবে যুদ্ধ পরিচালিত হবে? কে দেবে দিকনির্দেশনা?

এ প্রশ্নের উত্তর দিতেই ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত হয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার, যা ইতিহাসে ‘মুজিবনগর সরকার’ নামে পরিচিত।

এই সরকার শুধু মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেনি, বরং একটি নতুন রাষ্ট্রের দার্শনিক ও সাংবিধানিক ভিত্তি স্থাপন করেছিলো।

মুজিবনগর সরকারের উত্থান পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক বৈষম্য, সাংস্কৃতিক বৈষম্য এবং বাঙালি জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক প্রান্তিকায়নের ফল। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে, কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করে। বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা দেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’।

২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনী নির্বিচার গণহত্যা শুরু করলে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এরপরই তাঁকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর ঘনিষ্ঠ সহচররা ভারতে আশ্রয় নেন এবং সেখানেই ১০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা ঘোষণা করা হয়।

বৈদ্যনাথতলা (বর্তমান মুজিবনগর) নামে পরিচিত আম্রকাননে ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ তারিখে অনুষ্ঠিত হয় এই সরকারের শপথ অনুষ্ঠান। হাজার হাজার স্থানীয় বাসিন্দা ও আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউসুফ আলী স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। 

স্বাধীনতার সনদ পাঠক এই ইউসুফ আলী ছিলেন মুজিবনগর সরকারের ত্রাণ ও পু্নর্বাসন দপ্তরের প্রধান। পরে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী হয়েছিলেন তিনি। বহু গুণে গুণান্বিত ইউসুফ আলী বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা, এমনকি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতিও (১৯৭২-৭৬) ছিলেন তিনি।

যাই হোক, ১৭ এপ্রিলের সেই শপথ অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি ও সর্বাধিনায়ক, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করা হয়। ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী, এ এইচ এম কামারুজ্জামান ও খন্দকার মোশতাক আহমদ মন্ত্রিসভা সদস্য এবং কর্নেল এম এ জি ওসমানীকে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিয়োগ দেওয়া হয় সেদিনই।

মুজিবনগর সরকারের প্রশাসনিক কাঠামো ও যুদ্ধ পরিচালনা

গবেষকদের মতে, মুজিবনগর সরকার যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো গড়ে তুলেছিলো। সরকারটিতে সচিবালয়, পরিকল্পনা কমিশন এবং বিদেশে কূটনৈতিক মিশন অন্তর্ভুক্ত ছিলো।

পরবর্তীতে এই সরকারকে বিভিন্ন মহল একটি ‘অস্থায়ী’ সরকার বলে আখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করলেও, সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ভাষ্যমতে, ‘মুজিবনগর সরকার কোনো দৃষ্টিতেই অস্থায়ী সরকার ছিলো না, এটি ছিলো বাংলাদেশের প্রথম সরকার।’

সুষ্ঠু প্রশাসন পরিচালনার জন্য প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র, অর্থ-শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয়, সাধারণ প্রশাসন, স্বাস্থ্য ও কল্যাণ বিভাগ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগ, প্রকৌশল বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশন প্রভৃতি বিভাগ গঠন করা হয়েছিলো মুজিবনগর সরকারের অধীনে।

এসবের পাশাপাশি একটি শতভাগ পরিপূর্ণ সরকারের মতোই মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় ভূমিকা ছিলো প্রবাসী সরকারের। যুদ্ধ পরিচালনার জন্য সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয় এবং প্রতিটি সেক্টরের জন্য সেক্টর কমান্ডার নিয়োগ দেওয়া হয় এই সরকারের অধীনে।

সাংবাদিক-গবেষক সৈয়দ বদরুল আহসানের বিশ্লেষণ অনুসারে, ‘মুজিবনগর সরকার বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসে প্রথম স্বশাসিত সরকার, যা ইতিহাসের এক সংকটময় মুহূর্তে আত্মপ্রকাশ করেছিলো।’

দ্য ডেইলি স্টার ফোরামে তাঁর প্রবন্ধে মুজিবনগর সরকারকে বাঙালি জাতির জন্য একটি ‘নির্ধারক মুহূর্ত’ (‘defining moment’) হিসেবে অভিহিত করেছেন সৈয়দ বদরুল আহসান। তাঁর মতে, ‘ইতিহাসে এটি ছিলো প্রথম বাঙালি সরকার, যেটি বাঙালিদের দ্বারা পরিচালিত এবং বাঙালিদের জন্যই গঠিত।’

অসাধারণ কূটনৈতিক কুশলতা

শিক্ষক-গবেষক ড. মুনতাসীর মামুন মুজিবনগর সরকারের কূটনৈতিক কুশলতাকে কূটনীতির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি মনে করেন, এই সরকার কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক স্বীকৃতি ছাড়াই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গঠনে সক্ষম হয়েছিলো।

১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল সরকার গঠিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো রাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেবে এটি কূটনৈতিক দিক থেকে অচিন্তনীয় ছিলো। তবুও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (কলকাতা, দিল্লি, লন্ডন, ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক, স্টকহোম) বাংলাদেশ সরকারের মিশন স্থাপন করেছিলেন। বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিলো, যিনি বিশ্ব-নেতৃবৃন্দের সমর্থন আদায়ে দুর্দান্ত কাজ করেছিলেন এবং অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছিলেন।

মুজিবনগর সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন ছিলো ভারতের প্রত্যক্ষ সমর্থন ও সামরিক সহায়তা লাভ। সৈয়দ আবুল মকসুদের গবেষণা অনুসারে, সরকার গঠনের আগেই তাজউদ্দীন আহমদ ১৯৭১ সালের ৩ এপ্রিল দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং স্বাধীনতা অর্জন পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারের ভিত্তিতে ভারতের সর্বাত্মক সহযোগিতা আদায় করে নেন। তারই ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতার দশ দিন আগেই (৬ ডিসেম্বর) ভারত বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়।

রাষ্ট্র-নির্মাণের দর্শন

মুজিবনগর সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো একটি গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ ও সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপন। এই সরকারের ঘোষণাপত্রই পরবর্তীকালে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিলো। ঘোষণাপত্রের চারটি মূল স্তম্ভ ছিলো গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা, যা বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রদর্শনেরই প্রতিফলন।

দি ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘মুজিবনগর সরকারের প্রশাসনিক সংস্কারের দৃষ্টিভঙ্গি ছিলো যুগান্তকারী। এই সরকার ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি শাসকদের রেখে যাওয়া ঔপনিবেশিক কাঠামো বর্জন করে একটি নতুন প্রশাসনিক কাঠামো নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। এটি ছিলো একটি সাহসী ও প্রগতিশীল দর্শন।’

ইংরেজি দৈনিক দি অবজারভারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘মুজিবনগর সরকার প্রবাসের অবস্থায় একটি সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় কাঠামো নির্মাণ করে। এই সরকার কেবল যুদ্ধ পরিচালনাই করেনি, বরং একটি জাতির ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক রূপরেখাও তৈরি করে দিয়েছিলো। 

সৈয়দ বদরুল আহসান এই প্রসঙ্গে লিখেছিলেন, ‘এই সরকারের উদ্দেশ্য ছিলো ভূমির মুক্তি এবং এই কথাটিই সব বলে দেয়।’ 

অর্থনীতিবিদ ও গবেষক আকবর আলি খানের পর্যবেক্ষণ এক্ষেত্রে বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব আকবর আলি খানের মতে, ‘বাংলাদেশের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক রাষ্ট্র-নির্মাণের ক্রম উল্টে গিয়েছিলো। সাধারণত দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সরকার গঠিত হয়। এমন পরিস্থিতিতেও মুজিবনগর সরকার শতভাগ সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দিতে সক্ষম হয়েছিলো।’

মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'এ টেল অব মিলিয়নস' (A Tale of Millions)-এ উল্লেখ করেছেন, ‘যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে একটি আইনানুগ সরকারের অস্তিত্ব ছিলো মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেরণার উৎস। অত্যন্ত বৈরী পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে দীর্ঘ নয় মাস সফলভাবে সরকার পরিচালনা করা ছিলো ইতিহাসের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।’

বিশ্বের অন্যান্য প্রবাসী সরকারের (যেমন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন ফ্রান্স, পোল্যান্ড, চেকোস্লোভাকিয়া) সঙ্গে তুলনা করে গবেষকরা দেখিয়েছেন যে মুজিবনগর সরকার অনেক দিক থেকেই ছিলো ব্যতিক্রমী। এই সরকার একইসঙ্গে স্বদেশের অভ্যন্তরে জনগণের সমর্থন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কূটনৈতিক সাফল্য এবং একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় কাঠামো নির্মাণে সক্ষমতা দেখিয়েছিলো, যা সত্যিকার অর্থেই বিরল একটি দৃষ্টান্ত।

মুজিবনগর সরকার শুধু মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত একটি অস্থায়ী কাঠামো ছিলো না, এটি ছিলো বাঙালি জাতির হাজার বছরের সংগ্রামের চূড়ান্ত পরিণতি, একটি নতুন রাষ্ট্রের দার্শনিক ও সাংবিধানিক ভিত্তি। ড. মুনতাসীর মামুনের কূটনৈতিক বিশ্লেষণ থেকে শুরু করে সৈয়দ আবুল মকসুদের নেতৃত্ব বিষয়ক গবেষণা, ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামানের একাডেমিক গ্রন্থ থেকে শুরু করে আকবর আলি খানের সমসাময়িক মূল্যায়ন -এরকম সকল গবেষকই তাদের গবেষণায় একমত পোষণ করেছেন যে- এই সরকারের প্রাসঙ্গিকতা শুধু অতীতের ঘটনায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং আজকের বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো, গণতান্ত্রিক চেতনা ও জাতীয়তাবাদী আদর্শের ভিত রচনা করতে সক্ষম হয়েছিলো সেই প্রবাসী মুজিবনগর সরকার।

আজ থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ দশক আগে মেহেরপুরের আম্রকাননে স্বাধীনতার যে সূর্য উদিত হয়েছিলো, তার আলো আজও বাংলাদেশের পথচলার দিশা দেখায়। মুজিবনগর সরকার আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, ইতিহাসের সবচেয়ে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দূরদর্শী নেতৃত্ব, সাহসিকতা ও দৃঢ়সংকল্পের মাধ্যমে একটি জাতি নিজের ভাগ্য নিজের হাতে গড়ে নিতে পারে। আর তাই মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্র নির্মাণের দর্শন আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার যে ভিত্তি সেই সরকার স্থাপণ করেছিলো,  তা আজও বাংলাদেশের সংবিধানের মূল স্তম্ভ হিসেবে দীপ্তমান।

লেখক: সাংবাদিক, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের আজীবন সদস্য

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

বাংলাদেশকে ২৪৯ রানের টার্গেট দিয়েছে নিউজিল্যান্ড

বাংলাদেশকে ২৪৯ রানের টার্গেট দিয়েছে নিউজিল্যান্ড

হঠাৎ শুটিং সেটেই  অজ্ঞান করণ জোহর

হঠাৎ শুটিং সেটেই অজ্ঞান করণ জোহর

কেরানীগঞ্জে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কিশোর নিহত

কেরানীগঞ্জে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কিশোর নিহত

‘সোশ্যাল মিডিয়া সব সময় ভালো কিছু বয়ে আনে না’

‘সোশ্যাল মিডিয়া সব সময় ভালো কিছু বয়ে আনে না’

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App