কম ঘুমে বাড়ছে অবসাদ, দায়ী হতে পারে মিনারেলের ঘাটতি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রাতে ঠিকমতো ঘুম হচ্ছে না, মানসিক চাপ বাড়ছে, এমনকি রক্তচাপও ঊর্ধ্বমুখী—এসব সমস্যাকে অনেক সময় আমরা শুধু অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের ফল মনে করি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি থাকলেও এমন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত ম্যাগনেশিয়াম থাকে, তাদের হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি তুলনামূলক কম। অনিদ্রা, মানসিক অবসাদ ও হৃদ্রোগের মতো সমস্যার পেছনেও এই মিনারেলের অভাব ভূমিকা রাখতে পারে।
ভিটামিন ডি ও আয়রনের পাশাপাশি বর্তমানে ম্যাগনেশিয়ামও একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, পেশির সুস্থতা বজায় রাখা এবং স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখতে ম্যাগনেশিয়ামের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের সমস্যা কমাতেও এটি কার্যকর।
আরো পড়ুন : তীব্র গরমে এনার্জি ধরে রাখার ৭ কার্যকর উপায়
বয়স ও লিঙ্গ অনুযায়ী ম্যাগনেশিয়ামের চাহিদা ভিন্ন হয়। ১৯ থেকে ৩০ বছর বয়সী নারীদের দৈনিক প্রায় ৩১০ মিলিগ্রাম এবং ৩১ বছরের বেশি হলে ৩২০ মিলিগ্রাম প্রয়োজন। গর্ভাবস্থায় এই চাহিদা বেড়ে প্রায় ৩৫০ মিলিগ্রাম হয়। অন্যদিকে পুরুষদের ক্ষেত্রে ১৯ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের জন্য দৈনিক ৪০০ মিলিগ্রাম এবং ৩১ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য ৪২০ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম প্রয়োজন।
তবে সব সময় সাপ্লিমেন্টের ওপর নির্ভর না করে খাদ্য থেকেই এই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। ম্যাগনেশিয়ামসমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে রয়েছে কুমড়োর বীজ, চিয়া সিড, আমন্ড, কাজু, চিনাবাদাম, পালং শাক ও সয়ামিল্ক। এসব খাবার নিয়মিত খেলে শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের ভারসাম্য বজায় থাকে।
তবে যদি ঘুমের সমস্যা, মানসিক চাপ বা অন্যান্য জটিলতা বেশি হয়, সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ম্যাগনেশিয়াম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিজে থেকে সাপ্লিমেন্ট না নিয়ে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
