×

যুক্তরাষ্ট্র

ক্ষমতাবানদের সহযোগী যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিন আসলে কে?

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম

ক্ষমতাবানদের সহযোগী যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিন আসলে কে?

জেফরি এপস্টিন। ছবি : সংগৃহীত

ক্ষমতাবান রাজনীতিক, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও বিশ্বখ্যাত তারকাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক- একই সঙ্গে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন নিপীড়নের ভয়াবহ অভিযোগ। জেফরি এপস্টিন নামটি আজ যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে ক্ষমতার অপব্যবহার ও যৌন অপরাধের এক প্রতীকে পরিণত হয়েছে। কিন্তু আসলে কে ছিলেন এই বিতর্কিত ব্যক্তি?

“আমি যৌন শিকারী নই, আমি একজন যৌন অপরাধী”—২০১১ সালে নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছিলেন জেফরি এপস্টিন। তিনি বলেন, “এটি একজন খুনি আর একজন বেগেল চোরের পার্থক্যের মতো।”

কিন্তু অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন নির্যাতন ও পাচারের গুরুতর অভিযোগে জামিন ছাড়া বিচার অপেক্ষমাণ অবস্থায় ২০১৯ সালের ১০ আগস্ট নিউ ইয়র্কের একটি কারাগারে তার মৃত্যু হয়। সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী এটি আত্মহত্যা হলেও, এ নিয়ে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ এখনও রয়ে গেছে।

যৌন অপরাধ ও বিতর্কিত জীবন

একজন অপ্রাপ্তবয়স্ককে যৌনকর্মে বাধ্য করার ঘটনায় এপস্টিনকে যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত করা হয়। তার বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের নিয়ে একটি “বিশাল যৌন নেটওয়ার্ক” পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছিল। যদিও এসব অভিযোগ তিনি বরাবরই অস্বীকার করেছেন।

২০২৪ সালের নভেম্বরে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষ ‘এপস্টিন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’ অনুমোদন করে। পরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি বিলে স্বাক্ষর করেন, যার মাধ্যমে বিচার বিভাগকে এপস্টিন-সংক্রান্ত সব ফৌজদারি তদন্ত নথি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ৩০ লাখেরও বেশি নথি প্রকাশ করে। প্রকাশিত এক ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, এপস্টিনকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে তিনি নিজেকে শয়তান মনে করেন কি না। উত্তরে তিনি বলেন, “আমার একটা ভালো আয়না আছে।” প্রায় দুই ঘণ্টার ওই ভিডিওতে তাকে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে দেখা যায়, যদিও কে, কখন ও কেন এই সাক্ষাৎকারটি ধারণ করা হয়েছিল, তা নিশ্চিত করা যায়নি।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ জানান, একটি অত্যন্ত বিস্তৃত নথি শনাক্তকরণ ও পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার পর এসব নথি প্রকাশ করা হয়েছে। তবে বিরোধী ডেমোক্র্যাটসহ অনেকের অভিযোগ, যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা ছাড়াই বহু নথি গোপন রাখা হয়েছে।

শিক্ষক থেকে কোটিপতি

নিউ ইয়র্কে জন্ম ও বেড়ে ওঠা এপস্টিন ১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে শহরের নামকরা ডাল্টন স্কুলে গণিত ও পদার্থবিদ্যা পড়াতেন। যদিও তিনি নিজে কখনও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেননি।

এক শিক্ষার্থীর বাবার মাধ্যমে তিনি বিনিয়োগ ব্যাংক বিয়ার স্টার্নসের সঙ্গে যুক্ত হন এবং মাত্র চার বছরের মধ্যে অংশীদার হয়ে ওঠেন। ১৯৮২ সালে নিজের প্রতিষ্ঠান ‘জে এপস্টিন অ্যান্ড কোং’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা দ্রুত এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি সম্পদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পায়।

এরপর ফ্লোরিডায় প্রাসাদ, নিউ মেক্সিকোতে খামার, নিউ ইয়র্কে বিশাল বাড়ি এবং বিশ্বখ্যাত তারকা ও রাজনীতিকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে সব মিলিয়ে এক বিলাসবহুল জীবন গড়ে তোলেন তিনি।

ক্ষমতাবানদের সঙ্গে সম্পর্ক

২০০২ সালে নিউ ইয়র্ক ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক মন্তব্যে তৎকালীন ধনকুবের ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমি জেফকে ১৫ বছর ধরে চিনি। অসাধারণ মানুষ… সে আমার মতোই সুন্দরী, অনেক সময় তরুণ বয়সী নারীদের পছন্দ করে।”

পরবর্তীতে অবশ্য ট্রাম্প দাবি করেন, ২০০০ সালের গোড়ার দিকে এপস্টিনের সঙ্গে তার বিরোধ হয় এবং তিনি তাকে মার-এ-লাগো ক্লাব থেকে বের করে দেন। ট্রাম্প বরাবরই এপস্টিনের কোনো অপরাধে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে আসছেন।

এপস্টিনের বন্ধু তালিকায় ছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, অভিনেতা কেভিন স্পেসি, প্রিন্স অ্যান্ড্রু, চলচ্চিত্র প্রযোজক হার্ভে ওয়াইনস্টাইনসহ বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি। এই সম্পর্কগুলোই পরবর্তীতে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।

দোষী সাব্যস্তকরণ ও সমঝোতা

২০০৫ সালে ফ্লোরিডায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে এপস্টিনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। পুলিশ তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের ছবি উদ্ধার করে।

তবে ২০০৮ সালে ফেডারেল প্রসিকিউটরদের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে তিনি কঠোর সাজা এড়িয়ে যান। তাকে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও, দিনে ১২ ঘণ্টা অফিসে কাজের সুযোগ পান এবং মাত্র ১৩ মাস পরই মুক্তি লাভ করেন। এই চুক্তিকে মায়ামি হেরাল্ড “শতাব্দীর চুক্তি” হিসেবে আখ্যা দেয়।

মৃত্যুর পরেও বিতর্ক

২০১৯ সালের জুলাইয়ে আবারও গ্রেপ্তার হওয়ার পর নিউ ইয়র্কের মেট্রোপলিটন কারেকশনাল সেন্টারে বন্দি অবস্থায় এপস্টিনের মৃত্যু হয়। বিচার শুরু হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হওয়ায়, তার সঙ্গে জড়িত আরো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভূমিকা কখনোই পুরোপুরি প্রকাশ পায়নি।

গিসলাইন ম্যাক্সওয়েলের বিচার

এপস্টিনের মৃত্যুর পর আলোচনায় আসেন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সাবেক বান্ধবী গিসলাইন ম্যাক্সওয়েল। ২০২০ সালে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ২০২১ সালে তাকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন পাচারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বিচারে প্রমাণিত হয়, ম্যাক্সওয়েল এপস্টিনের জন্য অল্পবয়সী মেয়েদের সংগ্রহ ও প্রস্তুত করতেন। রায়ের পর তিনি বলেন, জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে পরিচয় হওয়াই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুশোচনা।

জেফরি এপস্টিনের জীবন কেবল একজন অপরাধীর কাহিনি নয়, এটি ক্ষমতা, অর্থ ও বিচার ব্যবস্থার দুর্বলতার এক অন্ধকার অধ্যায়। তার মৃত্যুর পরও প্রশ্ন রয়ে গেছে, তিনি একা ছিলেন, নাকি ক্ষমতার ছায়ায় দাঁড়িয়ে থাকা আরো অনেক নাম আজও অপ্রকাশিত?

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করলো জামায়াতে ইসলামী

নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করলো জামায়াতে ইসলামী

৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবে বিএনপি

৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবে বিএনপি

শেরপুর-৩: জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের দাফন সম্পন্ন, হাজারো  মানুষের ঢল

শেরপুর-৩: জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের দাফন সম্পন্ন, হাজারো মানুষের ঢল

মব ভায়োলেন্স নামে কিছু নেই

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মব ভায়োলেন্স নামে কিছু নেই

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App