×

যুক্তরাষ্ট্র

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প-যুক্তরাজ্য দ্বন্দ্ব, ঝুঁকিতে রাজা চার্লসের যুক্তরাষ্ট্র সফর

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৯ এএম

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প-যুক্তরাজ্য দ্বন্দ্ব, ঝুঁকিতে রাজা চার্লসের যুক্তরাষ্ট্র সফর

রাজা চার্লস ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সাধারণত সংযত, পরিমিতভাষী এবং আইনজীবীর মতো গম্ভীর স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশে বসে তিনি যেন একেবারেই ভিন্ন সুরে কথা বলেছিলেন।

তিনি রাজা চার্লস তৃতীয় এর পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে দ্বিতীয়বার রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণপত্র দেখান স্টারমার। তিনি এটিকে অভূতপূর্ব এবং ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেছিলেন। স্টামার বলেছিলেন, “এটি সত্যিই বিশেষ কিছু।”

স্টারমারের এই অস্বাভাবিক উচ্ছ্বাস থেকে বোঝা যায়, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তার সরকার কীভাবে সম্পর্ক পরিচালনা করতে চেয়েছিল। প্রশংসা ও রাজকীয় কূটনীতির মাধ্যমে ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট রেখে শুল্ক কমানো থেকে শুরু করে ইউক্রেন ইস্যুতে মার্কিন সমর্থন বজায় রাখা পর্যন্ত নানা সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। খবর সিএনএনের।

কিছুদিন পর্যন্ত এই কৌশল কার্যকরও ছিল। কিন্তু বর্তমানে তা ভেঙে পড়েছে বলে মনে হচ্ছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক সহায়তা দিতে অনীহা দেখানোয় ট্রাম্প শুধু মিত্রদেরই সমালোচনা করেননি, বিশেষভাবে স্টারমারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন।

গত ৩ মার্চ ট্রাম্প বলেন, এটা উইনস্টন চার্চিল নন। এমনকি তিনি যুক্তরাজ্যকে আর সেরা মিত্র বলেও মনে করেন না বলে মন্তব্য করেন।

ট্রাম্পের এমন কঠোর সমালোচনার পর যুক্তরাজ্যের অনেক আইনপ্রণেতা প্রশ্ন তুলছেন, এই পরিস্থিতিতে রাজা চার্লসের যুক্তরাষ্ট্র সফর আদৌ উপযুক্ত হবে কি না। যদিও সফরটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছিল যে এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ওয়াশিংটন সফরে যাবেন রাজা।

লেবার পার্টির এমপি এমিলি থর্নবেরি বলেন, আমরা কোনোভাবেই চাই না রাজাকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হোক। তাই সফরটি এখন করা ঠিক হবে কি না, তা খুব সতর্কভাবে ভাবতে হবে। বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সফরটি পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।

যুক্তরাজ্য ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সহায়তার জন্য নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের ট্রাম্পের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করার পর থেকেই ট্রাম্প ও স্টারমারের এই দ্বন্দ্ব শুরু হয়। স্টারমারের মতে, এটি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হতে পারে।

তবে ইরানের পাল্টা হামলার সময় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাজ্যের সামরিক সম্পদ আক্রান্ত হলে, সে প্রতিরোধে স্টারমার অংশ নিয়েছিলেন। এরপরও ট্রাম্প একদিকে স্টারমারের সহায়তার প্রস্তাবকে বিদ্রূপ করেছেন, অন্যদিকে যথেষ্ট সহযোগিতা না করার অভিযোগ তুলেছেন। গত ৭ মার্চ ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাজ্য মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর কথা ভাবছে, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই তিনি বলেন, এখন আর দরকার নেই।

আরো পড়ুন : ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা প্রধান লারিজানি নিহত

হরমুজ প্রণালী নিরাপদ করতে সহায়তার আহ্বানেও যুক্তরাজ্যের অনীহা ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করে। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের এই মনোভাব ভয়াবহ। ট্রাম্প দাবি করেন, যখন তিনি স্টারমারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বলেন, তখন স্টারমার বিষয়টি তার দলের সঙ্গে আলোচনা করার কথা বলেন। এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, আপনি প্রধানমন্ত্রী—আপনিই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

এই পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত পিটার ওয়েস্টম্যাকট বলেন, স্টারমার গত দেড় বছর ধরে সম্পর্কটি শান্তভাবে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে অহংবোধ কম রাখেন এবং যুক্তি দিয়ে ট্রাম্পকে বোঝাতে চান, কিন্তু তা সবসময় কাজ করে না।

তবে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মাঝেও ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি শিগগিরই রাজা চার্লসকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নতুন বলরুম নির্মাণ শেষ হলে তা বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের সফরে ব্যবহৃত হবে।

তিনি আরো বলেন, যুক্তরাজ্যের রাজা, আমি বলব ইংল্যান্ডের রাজা- তিনি খুব ভালো মানুষ, তিনি খুব শিগগিরই আসছেন। পরদিন আইরিশ প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের সঙ্গে বৈঠকেও ট্রাম্প একই ইঙ্গিত দেন।

তবে ট্রাম্পের অপ্রত্যাশিত আচরণ যুক্তরাজ্য সরকারকে দোটানায় ফেলেছে। একদিকে তারা রাজাকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে চায় না, অন্যদিকে সফর বাতিল করলে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হতে পারেন, এই আশঙ্কাও রয়েছে।

ওয়েস্টম্যাকট বলেন, এমন একটি সময় আসতে পারে যখন সরকার সিদ্ধান্ত নেবে, সফর এগিয়ে নেওয়ার ঝুঁকি ট্রাম্পকে অসন্তুষ্ট করার ঝুঁকির চেয়েও বেশি। এদিকে ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, রাজকীয় সফরের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে স্টারমারের অবস্থান প্রথমে সমালোচিত হলেও পরে অনেক বিরোধী নেতাই নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ প্রথমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পাশে থাকার কথা বললেও পরে বলেন, যুক্তরাজ্যের আরেকটি বিদেশি যুদ্ধে জড়ানো উচিত নয়।

একইভাবে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি বাডেনোকও প্রথমে সমর্থন দিলেও পরে অবস্থান পরিবর্তন করে স্টারমারের পক্ষেই কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি স্টারমারের কঠোর সমালোচক, কিন্তু হোয়াইট হাউস থেকে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তা ঠিক হয়নি। এই কথার লড়াই শিশুসুলভ এবং অশোভন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ঢাকাসহ যেসব বিভাগে হতে পারে কালবৈশাখী

ঢাকাসহ যেসব বিভাগে হতে পারে কালবৈশাখী

ইরান থেকে ফিরছে আটকে পড়া বাংলাদেশিরা

ইরান থেকে ফিরছে আটকে পড়া বাংলাদেশিরা

জামিনে মুক্তি পেয়ে জেলগেটে ফের আটক ইউপি চেয়ারম্যান

জামিনে মুক্তি পেয়ে জেলগেটে ফের আটক ইউপি চেয়ারম্যান

শেরপুরে মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ৩

শেরপুরে মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ৩

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App