×

বিশ্ববাণিজ্য

ইরান সংঘাতে চাপে বিশ্ব অর্থনীতি, ঝুঁকিতে বাংলাদেশসহ যেসব দেশ

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম

ইরান সংঘাতে চাপে বিশ্ব অর্থনীতি, ঝুঁকিতে বাংলাদেশসহ যেসব দেশ

জ্বালানি নিতে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর, যারা জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল-গ্যাস স্থাপনায় হামলার কারণে জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়েছে। ফলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, জর্ডান, মিসর ও ইথিওপিয়ার মতো দেশগুলো একসঙ্গে দ্বিমুখী চাপে পড়েছে, আমদানি নির্ভরতা এবং বাড়তি ব্যয় সামাল দেওয়ার সীমিত সক্ষমতা।

প্রায় ৮০ শতাংশ জ্বালানি উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আমদানি করে পাকিস্তান। দেশটি ইতোমধ্যে জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় স্কুল বন্ধ, সরকারি অফিসে চারদিনের কর্মসপ্তাহ, আংশিক ওয়ার্ক ফ্রম হোম এবং জ্বালানি ভাতা কমানোর মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি ঈদের আগে জ্বালানির দাম না বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে জানান, অতিরিক্ত খরচ সরকার বহন করবে।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানির দাম আরো বাড়বে এবং অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়তে পারে। প্রায় ৯৫ শতাংশ তেল আমদানি করে বাংলাদেশ। এরইমধ্যে দেশের কিছু এলাকায় পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি সংকট দেখা গেছে। যদিও রেশনিং ব্যবস্থা চালু করে পরে তা তুলে নেওয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন : যুদ্ধে ইরানে এ পর্যন্ত ২৪৩ শিক্ষার্থী–শিক্ষক নিহত

শ্রীলঙ্কায় পরিস্থিতি আরো কঠিন। ২০১৯ সালের অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা দেশটি এখন জ্বালানি সাশ্রয়ে প্রতি বুধবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে এবং যানবাহনের জন্য বাধ্যতামূলক ফুয়েল পাস চালু করেছে। মিসরেও পরিস্থিতি চাপের মধ্যে। দেশটির সরকার দোকানপাট ও শপিংমল দ্রুত বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে এবং বিদ্যুৎ ব্যবহার কমাতে পদক্ষেপ নিয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানির দাম ১৫ থেকে ২২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব দেশের সামনে এখন মুদ্রাস্ফীতি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং বাজেট ঘাটতির মতো বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। অনেক দেশের মুদ্রা মার্কিন ডলারের বিপরীতে দুর্বল হয়ে পড়ায় আমদানি ব্যয় আরো বেড়েছে।

এদিকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়েছে। উন্নয়নশীল দেশে মানুষ আয়ের বড় অংশ খাদ্য ও জ্বালানিতে ব্যয় করে, ফলে দাম বাড়লে তাদের ওপর চাপ আরো বাড়ে। একই সঙ্গে সরকারের পক্ষেও ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘ হলে পরিবহন খরচ বাড়ার প্রভাব দ্রুত খাদ্যপণ্যের দামেও পড়বে। উদাহরণ হিসেবে বলা হচ্ছে, পাকিস্তানে গম উৎপাদন ও পরিবহনে ডিজেলের ওপর নির্ভরতা বেশি। ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে আটা ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দামও বাড়বে।

সার্বিকভাবে, এই সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দিলেও এর সবচেয়ে বড় চাপ বহন করতে হচ্ছে দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোকে।

সূত্র: আলজাজিরা

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

আইসিসির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন তামিম ইকবাল

আইসিসির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন তামিম ইকবাল

এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে সরকারের ৫ উদ্যোগ

এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে সরকারের ৫ উদ্যোগ

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের প্রশ্নে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের প্রশ্নে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পে স্কেল ইস্যুতে আইএমএফের চাপ, শক্ত অবস্থানে সরকার

পে স্কেল ইস্যুতে আইএমএফের চাপ, শক্ত অবস্থানে সরকার

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App