ঘূর্ণিঝড় দিতওয়ার
শ্রীলঙ্কায় মৃত্যু বেড়ে ১৫৩, নিখোঁজ ১৯১
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ০১:৪৬ পিএম
বন্যায় খাদ্য সংকট দেখা দিচ্ছে, ফুরিয়ে যাচ্ছে বিশুদ্ধ পানি। ছবি : সংগৃহীত
ঘূর্ণিঝড় দিতওয়ার প্রভাবে শ্রীলঙ্কায় প্রবল বৃষ্টি, ভূমিধস ও বন্যায় অন্তত ১৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ১৯১ জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং দেশজুড়ে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ এ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ৭৮ হাজারেরও বেশি মানুষকে প্রায় ৮০০টি ত্রাণকেন্দ্রে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে, যার বেশিরভাগই স্থানীয় স্কুলে স্থাপন করা হয়েছে। এদিকে হাজার হাজার পুলিশ, সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্যরা আটকে পড়া মানুষ উদ্ধার, খাদ্য বিতরণ এবং যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে কাজ করে চলেছেন।
কলম্বো থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে কেলানি নদীর তীরবর্তী মালওয়ানার বাসিন্দা মল্লিকা কুমারি জানান, শুক্রবার দ্রুত বাড়ি ছাদ পর্যন্ত পানিতে ডুবে যায়। তিন সন্তান ও স্বামীকে একটি ভাড়া করা ট্রাকে তুলে দিতে পারলেও তিনি রাত কাটান রাস্তার পাশে। কুমারি বলেন, টেলিভিশনে সতর্কতা শুনেছিলাম, কিন্তু ভাবিনি পানি এত দ্রুত বাড়বে। কিছুই আনতে পারিনি। দুই ছেলে সর্দিজ্বরে আক্রান্ত—ওষুধ আনতে হবে, কাপড় আনার জন্য আবর্জনার ব্যাগ কিনেছি।
তাড়াহুড়োর মধ্যে পরিবারটি তাদের পোষা বিড়ালটিকে ফেলে এসেছিল। পরে নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী দল বিড়ালটিকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেয়।
আরো পড়ুন : পাকিস্তানে ৩.৫ মাত্রার ভূমিকম্প
মালওয়ানা ও আশপাশের নিচু এলাকাগুলোর ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে রয়েছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ। আবহাওয়া অধিদপ্তর রোববারও প্রবল বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে, যা নতুন করে বন্যার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
বন্যাকবলিত অনেকেই আধা-ডুবে থাকা বাড়ির উপরের তলায় উঠে মালসামান রক্ষায় চেষ্টা করছেন। স্থানীয় ওষুধের দোকান, সুপারমার্কেট, কাপড়ের দোকানসহ বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন ব্যবসায়ীরা—এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘ সময় লাগবে বলে তারা মনে করছেন।
স্থানীয় ডালুগালা থাকিয়া মসজিদে স্বেচ্ছাসেবীরা ভাত, মুরগি ও ডালের প্যাকেট প্রস্তুত করছেন বন্যার্তদের মধ্যে বিতরণের জন্য। স্বেচ্ছাসেবীরা জানিয়েছেন, ধীরে ধীরে ত্রাণের চাহিদা বাড়ছে। উদ্যোগের অন্যতম সংগঠক রিশাম আহমেদ বলেন, অনেক দিনমজুর এখন কাজ পাচ্ছেন না, তাদের সঞ্চয় শেষ হয়ে যাচ্ছে। তাই খাবারের প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। মানুষ কীভাবে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
শ্রীলঙ্কা জুড়ে উদ্ধার ও ত্রাণ অভিযান চলছে, তবে বন্যা পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলছে।
