ধেয়ে আসছে টাইফুন ‘বাভি’, সরানো হলো ৬ লাখের বেশি মানুষ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জাপানের সাকিশিমা দ্বীপে আঘাত হানার এবং উত্তর তাইওয়ান ঘেঁষে যাওয়ার পর এবার তীব্র গতিতে চীনের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন ‘বাভি’। দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতির কারণে চীন কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই তাদের ঘরবাড়ি থেকে ৬ লাখেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) দেশটির পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর ওয়েনঝৌ ও আশপাশের এলাকা থেকে ব্যাপক এ সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এর আগে টাইফুনটি জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জে ভারী বৃষ্টি ও দমকা বাতাসের সৃষ্টি করে এবং পরে তাইওয়ানের উত্তরাঞ্চল ঘেঁষে অগ্রসর হয়।
আবহাওয়াবিদদের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় অপেক্ষাকৃত শীতল সমুদ্রের ওপর দিয়ে যাওয়ায় ‘বাভি’র শক্তি কিছুটা কমেছে। তবে এর সঙ্গে থাকা বিশাল বৃষ্টিবলয় এখনও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। এই বৃষ্টিবলয়ের বিস্তৃতি প্রায় ফ্রান্সের সমান বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, রোববার (১২ জুলাই) ভোরে প্রায় এক কোটি মানুষের বসবাসের শহর ওয়েনঝৌতে টাইফুনটি আঘাত হানতে পারে।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ঝেজিয়াং প্রদেশ থেকে ৫ লাখের বেশি এবং পার্শ্ববর্তী ফুজিয়ান প্রদেশ থেকে আরও ১ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় সতর্কতা জারি, নৌযান চলাচল সীমিত এবং বিভিন্ন জরুরি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ওয়েনঝৌর বাসিন্দা ৫০ বছর বয়সী হুয়াং শিংহুয়ান বলেন, টাইফুন নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও এর আগেও তারা এমন পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন। তাই এবারও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা করছেন।
তিনি জানান, বাজার বন্ধ হওয়ার আগেই পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করেছেন। দুই থেকে তিন দিনের জন্য পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তার মতে, প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় অযথা আতঙ্কিত হওয়া বা অতিরিক্ত মজুত করার প্রয়োজন নেই।
এদিকে, জাপান ও তাইওয়ানে এখন পর্যন্ত টাইফুন ‘বাভি’র কারণে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে ফিলিপাইনে টাইফুনের প্রভাবে সৃষ্ট প্রতিকূল আবহাওয়া ও মৌসুমি ভারী বৃষ্টিতে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
