তারেক রহমানের বরিশাল সফরকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ
এম.কে. রানা, বরিশাল থেকে
প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম
এম.কে. রানা
দীর্ঘ দুই দশক পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বরিশাল সফর ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। তাঁর আগমনকে ঘিরে শহরে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বরিশালে জনসভা করে তিনি যে বার্তা দেবেন, সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
বরিশালবাসীর স্মৃতিতে এখনো জ্বলজ্বল করছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। ১৯৭৯ সালে বরিশাল সার্কিট হাউজে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বরিশাল বিভাগ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৩ সালে বিভাগ হিসেবে বরিশালের উদ্বোধন করেন বেগম জিয়া।
তার শাসনামলেই বরিশাল বিমানবন্দর চালু, বরিশাল সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠা, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, বিভাগীয় গণগ্রন্থাগার, সার্কিট হাউজ, জেলা জজ আদালত ভবন, মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ বহু স্থাপনা গড়ে ওঠে।
ভোলার শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্রে গ্যাস আবিষ্কার হয় ১৯৯৫ সালে। যদিও আজও সেই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়নি। একইভাবে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক, দপদপিয়া সেতু, গাবখান সেতু, বেকুঠিয়া ফেরিঘাট, কুয়াকাটা পর্যটন মোটেল দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ও পর্যটনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল।
কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে এই অঞ্চলে বড় কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ফরিদপুর-বরিশাল-পায়রা-কুয়াকাটা রেললাইন, বরিশালে ইপিজেড, নিয়মিত বিমান ফ্লাইট, চট্টগ্রাম-বরিশাল-যশোর আকাশপথ চালু, কুয়াকাটা সৈকত রক্ষা বাঁধ, বরিশাল বন্দরের নাব্যতা উন্নয়ন—সবই এখনো কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ।
বরিশাল বিএনপির নেতারা বলছেন, এই সফর থেকে একটি শক্ত রাজনৈতিক বার্তা যাবে—দক্ষিণাঞ্চল বিএনপির অগ্রাধিকার তালিকায় শীর্ষে।
এদিকে গত সোমবার বরিশাল বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন বলেন, তারেক রহমান দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে অত্যন্ত সজাগ। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে অতীতের মতো এবারও দক্ষিণাঞ্চলে উন্নয়নের নতুন মাইলফলক রচিত হবে।
