শোকজ ও সংঘর্ষে উত্তেজনা
রাজশাহী জেলা বিএনপিতে আবার কোন্দল

কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৫, ০৩:২৬ পিএম

ছবি : সংগৃহীত
রাজশাহীতে বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দলে তীব্র কোন্দল দেখা দিয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও পৌর এলাকায় পৃথকভাবে কর্মসূচি ঘোষণা করা হলেও এতে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে। জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপুসহ পাঁচজন পদধারী নেতাকে শোকজ করা হয়েছে।
অন্যদিকে দুর্গাপুরে প্রস্তুতি সভায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিবসহ অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ ছয় বছর ধরে জেলা বিএনপি ও অধীনস্থ উপজেলা-পৌর ও ইউনিয়ন কমিটিগুলো আংশিক আহ্বায়ক কমিটির ওপর নির্ভর করছে। এতে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের অভিযোগ, অল্প কিছু নেতা পদ বাগিয়ে সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন, অথচ ত্যাগী নেতারা উপেক্ষিত। এ থেকেই নিয়মিত কোন্দলের জন্ম হচ্ছে। কয়েক মাস আগেই তানোরে দুই নেতা নিহত হন দলীয় দ্বন্দ্বে। এবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরেও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
২৭ আগস্ট নগরীর বোয়ালিয়া থানা এলাকায় তপুর নেতৃত্বে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কেন্দ্রীয় নেতা জাহান পান্নাসহ ৩৫ জনেরও বেশি পদধারী উপস্থিত ছিলেন। সভায় ১ সেপ্টেম্বর আলুপট্টি মোড়ে সমাবেশ ও শোভাযাত্রার সিদ্ধান্ত হয়। এ ঘটনার পর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ, যুগ্ম-আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম মার্শাল ও সদস্য সচিব বিশ্বনাথ সরকার স্বাক্ষরিত নোটিশে পাঁচ নেতাকে শোকজ করা হয়। তাদের পাঁচ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
তবে তপু দাবি করেন, রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত। আমাদের শোকজ দেওয়ার অধিকার কারও নেই। বিপরীতে আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, কমিটি বহাল আছে। পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন করলে সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা হবে, তাই শোকজ।
এদিকে ২৯ আগস্ট দুর্গাপুরে প্রস্তুতি সভায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক জুবায়েদ হোসেনসহ ১০ জন আহত হন। আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
একই ধরনের বিভক্তি পুঠিয়া, বাগমারা, তানোর ও বাঘা উপজেলাতেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জেলা পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম জানিয়েছেন, যাতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি ঘিরে কোনো বিশৃঙ্খলা না হয়, সে জন্য পুলিশ সতর্ক রয়েছে। জেলা আহ্বায়ক চাঁদও সতর্ক করেছেন, কোন্দলে জড়ালে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।