ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদের জেরে হামলা, নিহত ১
মেঘনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) ভোর আড়াইটার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের মুগারচর গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে শাহজালাল ওরফে সাব্বির (২০) মারা যান। একই ঘটনায় আহত রফিকুল ইসলামের ছেলে জিহাদ (২২) এখনো আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ মার্চ রাতে উপজেলার মুগারচর গ্রামে ‘আলী শাহ্ ভান্ডারী’ বার্ষিক ওরশ মাহফিল চলাকালে কয়েকজন বখাটে কিশোর স্থানীয় কিশোরী ও নারীদের উদ্দেশে অশালীন অঙ্গভঙ্গি করে ইভটিজিং করে। এ সময় সাব্বির ও জিহাদসহ কয়েকজন সচেতন যুবক এর প্রতিবাদ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয় এবং বখাটেরা সেখান থেকে সরে যায়।
এরই জের ধরে ২৭ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে রাধারনগর ইউনিয়নের লক্ষণখোলা রাস্তার মোড়ে পূর্বপরিকল্পিত প্রতিশোধমূলক হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া একদল কিশোর গ্যাং সদস্য সাব্বির ও জিহাদসহ পাঁচজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তিনজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও সাব্বির ও জিহাদকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অবস্থার অবনতি হলে পরবর্তীতে সাব্বিরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাশ্ববর্তী একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার দিবাগত রাতে তাঁর মৃত্যু ঘটে।
এ ঘটনায় ২৮ মার্চ আহত জিহাদের বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মেঘনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে লক্ষণখোলা গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে নাঈম (২০), সাইজুদ্দিনের ছেলে বাবুল মিয়া (৪৮), অহিদ মিয়ার ছেলে জাহিদুল (১৯), রুকু মিয়ার ছেলে কামাল মিয়া (৪৬), কামাল মিয়ার ছেলে সজিব (২৩), মৃত সিরাজ মিয়ার ছেলে লিল মিয়া (৫০) ও ফিরোজ মিয়া (৪৫)-সহ অজ্ঞাত আরও ৭–৮ জনকে।
এদিকে সাব্বিরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় গ্রামবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়ে মেঘনা-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন এবং দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করে এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম ভোরের কাগজকে বলেন, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মর্গে পাঠানো হয়েছে। একই ঘটনায় ২৮ মার্চ শনিবার ৩০৭ ও ৩২৬ ধারায় জিহাদের পরিবারের দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগে এটি যখমি মামলা ছিল, তবে একজনের মৃত্যু হওয়ায় একই মামলাটি ৩০২ ধারায় রূপান্তরের জন্য সকালে আবেদ ন করা হয়েছে। এখন এটি খুনের মামলায় পরিণত হয়েছে এবং জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
