চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর, আহত ৫
নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে বাধা দিতে গিয়ে ব্যবসায়ীসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
রোববার (৫ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে উপজেলার পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামের সাহেবের হাট বাজারে অবস্থিত ‘মেসার্স কাশেম কোম্পানি’ নামক প্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত দুইজনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতরা হলেন- প্রতিষ্ঠানের প্রোপাইটর মাইন উদ্দিন রিপন (৪৪), ম্যানেজার আবদুর রহিম (৫৫), রিপনের ভাই নাজিম উদ্দিন (৪৬) ও সহিদ উদ্দিন (৪০) এবং কর্মচারী তানিম (১৭)।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাইন উদ্দিন রিপন অভিযোগ করে বলেন, ‘মেসার্স কাশেম কোম্পানি’ নোয়াখালী সদর পশ্চিমাঞ্চলের একটি সুপরিচিত হার্ডওয়্যার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, যা চার দশকের বেশি সময় ধরে সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হয়ে আসছে।
তিনি জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর এওজবালিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো. রাজিব ও তার সহযোগীরা তার কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে একাধিকবার ভয়ভীতি ও হামলা-মামলার হুমকি দেওয়া হয়।
তিনি আরো জানান, গতকাল রোববার সন্ধ্যায় অভিযুক্তের বাবা বিএনপি নেতা আবদুল মান্নান তার প্রতিষ্ঠানে এসে একটি গ্যাস সিলিন্ডার কেনা নিয়ে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে চাঁদা দাবিকে আড়াল করতে ইস্যু তৈরি করেন। এর জেরে রাত ১০টার দিকে মো. রাজিব, তার বাবা আবদুল মান্নান, স্থানীয় ওয়ার্ড যুবদল নেতা মো. মাসুদ, যুবদল কর্মী কামাল উদ্দিনসহ ১৫-২০ জনের একটি দল অতর্কিতভাবে প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়।
এসময় হামলাকারীরা ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং ক্যাশে থাকা প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা লুট করে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি মারধর ও কুপিয়ে পাঁচজনকে আহত করে।
পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এর আগেই স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে গুরুতর আহত মাইন উদ্দিন রিপন ও আবদুর রহিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মো. রাজিবের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম জানান, সাহেবের হাট এলাকায় মারামারির একটি ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
