ডুমুরিয়ায় গাছে গাছে আমের ভার, বাম্পার ফলনের আশা
ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৮ এএম
ছবি: সংগৃহীত
ডুমুরিয়া উপজেলাজুড়ে এখন এক নয়নাভিরাম দৃশ্য। আমগাছগুলোর ডালে ডালে ঝুলছে কাঁচা সবুজ আমের থোকা। ছোট চারাগাছ থেকে শুরু করে বিশালকায় পুরোনো গাছ— কোনোটিই যেন বাদ যাচ্ছে না। এই চমৎকার দৃশ্যটি কেবল প্রকৃতির সৌন্দর্যই বাড়াচ্ছে না, বরং স্থানীয় চাষিদের মনেও সঞ্চার করছে নতুন আশা।
এ বছর উপজেলার সর্বত্রই আমের ব্যাপক ফলন চোখে পড়ছে। বৈশাখী হাওয়ায় দোল খাচ্ছে গাছে গাছে ঝুলে থাকা সবুজ আম। বাগান মালিক ও কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আমের রেকর্ড পরিমাণ ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক বাগান— সবখানেই আমের রাজত্ব। বিশেষ করে এ বছর ছোট ও মাঝারি আকারের গাছগুলোতেও প্রচুর আম ধরেছে। অনেক ক্ষেত্রে আমের ভারে গাছের ডাল নুয়ে পড়তে দেখা গেছে।
স্থানীয় চাষিরা জানান, মুকুল আসার সময় থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত আবহাওয়া বেশ ভালো। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা ঝোড়ো হাওয়া না হলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই আমগুলো পরিপক্ব হয়ে উঠবে। আমের গুটি ভালো থাকায় বাগানগুলোতে এখন চলছে শেষ সময়ের পরিচর্যা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে, সঠিক সময়ে সেচ ও বালাইনাশক প্রয়োগের ফলে আমের গুটি ঝরা কম হয়েছে। গাছে গাছে যে পরিমাণ আম দেখা যাচ্ছে, তাতে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এই আম দেশের অন্যান্য জেলাতেও সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. নাজমুল হুদা জানান, কাটিমন, ব্যানানা, ম্যাংগো, বারি-১, বারি-২, বারি-৩ ও বারি-৪ সহ নতুন জাতের আমের চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি দেশি জাতের ফজলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, মিশ্রি ভোগ ও হাড়িভাঙ্গা আমেরও ভালো মুকুল এসেছে।
উপজেলা–এর কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ৩২৭ হেক্টর জমিতে ৩৮০টি আম বাগান রয়েছে এবং অধিকাংশ গাছেই আম হয়েছে।
গত বছর, ডুমুরিয়ার প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হয়েছিল এবং জেলার আম দেশের বিভিন্ন স্থানের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হয়েছে। এবারও সেই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
