তিন ঘণ্টার বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ চট্টগ্রাম নগরী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
মাত্র ঘন্টা তিনেকের বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরজুড়ে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। প্রবর্তক মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে যান চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার পর বৃষ্টি শুরু হয়, যা তিন ঘন্টার মতো স্থায়ী ছিলো।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, এদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নগরীর আমবাগান এলাকায় মাত্র ১০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এতেই শহরের কোথাও হাঁটু পানি, আবার কোথাও কোমর সমান পানি জমে যায়। ফলে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রবর্তক মোড়ের অদূরে বদনা শাহ মাজারের সামনের সড়কে জমে থাকা পানিতে আটকা পড়ে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। বেশ কয়েকটি গাড়ি বিকল হয়ে সড়কের ওপরই পড়ে থাকতে দেখা গেছে। অনেককে কোমরসমান, কোথাও কোথাও গলাসমান পানি পেরিয়ে চলাচল করতে হয়েছে। পানির কারণে অনেকে বাধ্য হয়ে রোড ডিভাইডারের ওপর দিয়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।
এ সড়কের পাশেই রয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। ফলে রোগী, স্বজন এবং জরুরি সেবাগ্রহীতাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
বছরের পর বছর চলে আসা এই দুর্গতি দূর করতে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৪টি মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। তবে প্রকল্পগুলোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও নগরবাসী এর সুফল পাচ্ছে না। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক ও অলিগলি আগের মতোই পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।
জলাবদ্ধতার কারণে সড়কে গণপরিবহন কমে যাওয়ায় বাড়তি ভাড়া হাঁকাচ্ছেন চালকেরা। এতে যাত্রী ও অভিভাবকদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি।
সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম বলেন, ‘মেগা প্রকল্পের কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ। ৩৬টি খালের মধ্যে ৩৪টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। জামালখান ও হিজরা খালের কিছু অংশে বাঁধ দিয়ে কাজ চলায় পানি নামতে বাধা পেয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা দ্রুত বাঁধগুলো খুলে দিয়েছি।’
সিটি করপোরেশনের উপ-প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা বলেন, ‘বিভিন্ন স্থানে বাঁধ দিয়ে উন্নয়ন কাজ চলমান থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কাজ শেষ হলে আগামী বর্ষায় নগরবাসী জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবেন।’
