×

চট্টগ্রাম

নোয়াখালীতে চরম গ্যাস সংকট, অচল সিএনজি ও বাসাবাড়ির রান্না

Icon

মোহাম্মদ সোহেল, নোয়াখালী

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৮ পিএম

নোয়াখালীতে চরম গ্যাস সংকট, অচল সিএনজি ও বাসাবাড়ির রান্না

ছবি: সংগৃহীত

সারাদেশের মতো নোয়াখালীতেও তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। হঠাৎ গ্যাসের চাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় জেলার সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আবাসিক গ্রাহক ও উৎপাদনমুখী শিল্পকারখানায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

সরেজমিনে ডি.ডি. ফিলিং স্টেশন, মেসার্স সাবিক সিএনজি রি-ফুয়েলিং এবং মেসার্স মা আয়েশা ফিলিং স্টেশনসহ জেলার বেশ কয়েকটি সিএনজি স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, গ্যাসের চাপ কম থাকায় সকাল থেকে কার্যত গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে গ্যাস নিতে আসা যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। গ্যাস না পেয়ে গাড়ির মালিক, চালক ও শ্রমিকদের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। কিছু ফিলিং স্টেশনে সীমিত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। একইভাবে স্বল্প চাপের কারণে আবাসিক গ্রাহকরাও পড়েছেন দুর্ভোগে।

পরিবহন চালকরা জানান, ভোররাত থেকে ৫-৬ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে কর্মঘণ্টার বড় একটি অংশ ফিলিং স্টেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে নষ্ট হচ্ছে। এতে গাড়ির জমা, ব্যক্তিগত খরচ ও দৈনন্দিন আয় নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা।

চালকদের কেউ কেউ বলেন, কিছুদিন আগে দেশে তেলের সংকট তৈরি হয়েছিল। পরে দাম বাড়ানোর পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। এখন গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনে দাম বাড়িয়ে হলেও গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানান তারা।

ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, গ্যাসের চাপ কম থাকায় তাদের কিছুই করার নেই। বরং প্রতিনিয়তই লোকসানে পড়ছেন তারা। আগে যেখানে একটি গাড়িতে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার গ্যাস দেওয়া সম্ভব হতো, বর্তমানে সেখানে সর্বোচ্চ ২০০ টাকার মতো গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে। সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে ফিলিং স্টেশন বন্ধ করে দিতে হবে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।

এদিকে সিএনজি স্টেশনের পাশাপাশি আবাসিক এলাকাতেও তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। জেলা শহর মাইজদীর হাউজিং এলাকা, লক্ষ্মীনারায়ণপুর, গোপাই, গাবতলী, সোনাপুর ও মাইজদী বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েকদিন ধরে গ্যাস না থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন গ্রাহকরা।

আবাসিক গ্রাহকরা জানান, কয়েকদিন ধরে গ্যাস সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। দিনের অধিকাংশ সময় চুলায় গ্যাসের চাপ থাকে না বললেই চলে। ফলে রান্নাবান্না করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সকাল ও রাতে গ্যাস না থাকায় বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

অনেকেই বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন, যা অতিরিক্ত খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এটি বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। নিয়মিত গ্যাস বিল পরিশোধ করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করে নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।

এ বিষয়ে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, নোয়াখালীর উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. শাহ আলম বলেন, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সংকটের কারণে ফেনীর গ্যাস কন্ট্রোল রুম থেকে সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে প্রাপ্ত গ্যাস বর্তমানে জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। ফলে ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর অঞ্চলে গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের সুন্দলপুর, হাবিবপুর ও বেগমগঞ্জ গ্যাস ফিল্ড থেকে পাওয়া গ্যাস দিয়েই বর্তমানে ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর অঞ্চলের সীমিত চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে। তবে এ সংকট কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে গ্যাস সংকট আরও তীব্র হয়ে জনজীবনে দুর্ভোগ বাড়তে পারে। তাই সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

পুলিশের সোর্স থেকে মাদক কারবারে, পিচ্চি রাজার উত্থান যেভাবে

পুলিশের সোর্স থেকে মাদক কারবারে, পিচ্চি রাজার উত্থান যেভাবে

ইউএনও-উপজেলা প্রশাসকদের জরুরি নির্দেশনা জারি

ইউএনও-উপজেলা প্রশাসকদের জরুরি নির্দেশনা জারি

বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক চায় ভারত

বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক চায় ভারত

এডিবির সঙ্গে বাংলাদেশের ২৭৫ মিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তি

এডিবির সঙ্গে বাংলাদেশের ২৭৫ মিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তি

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App