×

সারাদেশ

পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রকল্প প্রস্তাব ঝুলে আছে

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২১, ০৯:৫৯ এএম

পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রকল্প প্রস্তাব ঝুলে আছে

লাল শাপলার নৈসর্গিক সৌন্দর্যকে ঘিরে বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলায় পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা থাকলেও অযতœ-অবহেলা ফিকে হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ভোরের কাগজ

লাল শাপলার নৈসর্গিক সৌন্দর্যকে ঘিরে বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলায় পর্যটন শিল্পের যে সম্ভাবনা গড়ে উঠেছিল অযত্ন-অবহেলা আর পরিকল্পনার অভাবে সেই সম্ভাবনা ফিকে হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অথচ উজিরপুরের সাতলা বিলে ফুটন্ত কোটি কোটি লাল শাপলা রূপসী বাংলার অপরূপ ও মনোমুগ্ধকর দৃশ্য প্রকৃতিপ্রেমীদের মন কেড়েছিল। ইন্টারনেটের বদৌলতে যা দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও পরিচিতি পায়। যার ধারাবাহিকতায় তৎকালীন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ইয়ামিন চৌধুরী উজিরপুরের লাল শাপলার বিল পরিদর্শনকালে স্থানটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কথা জানিয়েছিলেন। পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে আড়াই কোটি টাকার একটি প্রকল্পের প্রস্তাবনাও পাঠানো হয়েছিল পর্যটন মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে সেই প্রকল্পে ভাটা পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা গেছে। তবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে গৃহীত প্রকল্পগুলোর মধ্যে এই শাপলা বিল সম্পর্কিত কোনো প্রকল্প পাওয়া যায়নি। অবশ্য করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পর্যটন কেন্দ্রকে ঘিরে অবকাঠামোগত কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বরিশালের জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান। অপরদিকে বিল এলাকায় বিশ্রামাগার, ওয়াশরুম, আবাসিক ও খাবার হোটেল এবং গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে দর্শনার্থীদের। বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হারতা, সাতলা কিংবা আগৈলঝাড়ার বাঘদা গ্রামে লাল শাপলার বিলে রূপসী বাংলার অপরূপ সৌন্দর্য দেখা যায়। মনোমুগ্ধকর লাল শাপলার বিল দেখতে প্রতি বছর পর্যটকদের আনাগোনা দেখা যায়। বিলের শান্ত জলে ডিঙ্গি নৌকা। এতে আসন পেতে ঘুরে বেড়ান পর্যটকরা, উপভোগ করেন প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভ‚মি হিসেবে খ্যাত বিস্তৃত লাল শাপলার বিলে গত বছরগুলোর তুলনায় চলতি মৌসুমে অনেক কম শাপলা ফুটেছে। জলবায়ু পরিবর্তন, জলাশয় ভরাট করে বাড়ি, পুকুর নির্মাণ, মাছের ঘের তৈরি, কৃষিজমিতে উচ্চমাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ, স্নুইসগেট দিয়ে বিলাঞ্চলে সময়মতো পানি না উঠানোর কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া লাল শাপলার বিলে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা পলিথিনজাতকরণ করা বিভিন্ন খাবার যেমন : চিপস, বিস্কুট, প্লাস্টিক পানির বোতল, সিগারেটের প্যাকেট ইত্যাদি বিলের মধ্যে ফেলছে, যা ভবিষ্যতে শাপলার প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস করবে। কেননা, পলিথিনের কারণে পরিবেশ নষ্ট হয়, মাটির উর্বরতা শক্তি হ্রাস পায়। এছাড়া দর্শনার্থীদের প্রায় প্রত্যেকেই বিলের মধ্যে নৌকা নিয়ে গেলেও মাঝখানে গিয়ে ইচ্ছেমতো শাপলা তুলে ফটোসেশনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা জানান, বোরো মৌসুমে কৃষকদের ধান কাটার পর বর্ষায় স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিলে মাছ চাষ করেন। তাছাড়া শাপলা মৌসুমে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেক নামি-দামি লোকজন গাড়ির বহর নিয়ে লাল শাপলার সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। তারা নৌকা ভরে শাপলা তোলেন। কেউ-বা আবার গামছা দিয়ে শাপলা বোঝাই করে মাথায় নিয়ে ছবি তোলেন। এতে শাপলার উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। এখানে ঘুরতে আসা পিরোজপুরের বাসিন্দা মো. জসিম জানান, লাল শাপলার সৌন্দর্য উপভোগ করার সময় মূলত ভোরের সূর্য ওঠার পর থেকে সকাল ৮টা কিংবা ৯টা পর্যন্ত। কিন্তু সকালে দূর-দূরান্ত থেকে এসে ফুটন্ত লাল শাপলার সৌন্দর্য উপভোগ করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে পর্যটকদের সুবিধার্থে বিলাঞ্চলের আশপাশে ভালো মানের আবাসিক ব্যবস্থা থাকলে সহজেই দূর-দূরান্তের লোকজন এসে লাল শাপলার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারতেন। আরেক দর্শনার্থী ইশতিয়াক হোসাইন বলেন, পর্যটকদের জন্য এখানে কোনো ওয়াশরুম কিংবা ভালোমানের খাবার হোটেল না থাকায় দর্শনার্থীদের বিপাকে পড়তে হয়। বিশেষ করে নারী দর্শনার্থীদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয় বেশি। তিনি আরো বলেন, এখানে দেশের অন্যান্য দর্শনীয় স্থানের মতো কোনো ‘গাইড’ কিংবা ভলান্টিয়ার নেই। ফলে কোন স্থানে গেলে মনোমুগ্ধকর দৃশ্য বেশি চোখে পড়বে তা জানা যাচ্ছে না। নৌকায় ঘুরে বেড়ানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নৌকার ভাড়া নির্দিষ্ট করা নেই, যে যত নিতে পারে। দর্শনার্থীদের মতে, পর্যটন বিভাগ এবং প্রশাসনের উদ্যোগে পরিকল্পিতভাবে লাল শাপলার এ বিলকে সংরক্ষণ করা না হলে অচিরেই হারিয়ে যেতে পারে পর্যটন সম্ভাবনাময় লাল শাপলার নৈসর্গিক মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের বিলাঞ্চল। তারা পরিকল্পিতভাবে বিলে শাপলা বাড়াতে উদ্যোগ নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। উজিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ সিকদার বাচ্চু বলেন, শাপলা বিলকে পর্যটকবান্ধব করতে এমপি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর পরামর্শ মোতাবেক ৫২ লাখ টাকার একটি প্রকল্পের প্রস্তাব বরিশাল জেলা প্রশাসক ও এলজিইডিতে দেয়া হয়েছে। সবাই এসে নানা প্রতিশ্রæতি দিলেও তা বাস্তবায়নে কেউ এগিয়ে আসছে না জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা লেখনীর মাধ্যমে সরকারের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন। যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই সৌন্দর্যের লীলাভ‚মি লাল শাপলার বিলকে ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে ওঠে। তা না হলে শাপলার এ বিলটি বিলুপ্ত হয়ে যাবে বলে মনে করেন তিনি। উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণতি বিশ্বাস বলেন, তিনি যোগদান করার পর ২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা বরিশালের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে বিগত ৬ মাসের মধ্যে কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে তা জানা নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে পর্যটকরা শাপলার বিলে আসেন। কোনো ধরনের ফান্ড না পাওয়ায় যত উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি বলেও জানান তিনি। পর্যটকদের জন্য ওই বিলের আশপাশে অবকাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে জানিয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবেন তারা। তবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রস্তাবিত প্রকল্পের তালিকায় উজিরপুরের লাল শাপলার বিল এলাকায় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (পর্যটন-১) শামীম নাসরীন সদ্য যোগদান করায় তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না জানিয়ে পর্যটন (২)-এ যোগাযোগ করার জন্য বলেন। উপসচিব (পর্যটন-২) শ্যামলী নবীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এ সম্পর্কিত কোনো প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

গঙ্গাচড়ায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে কারণ দর্শানোর নোটিশ

গঙ্গাচড়ায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে কারণ দর্শানোর নোটিশ

নাটোরে ট্রাক-ইজিবাইকের সংঘর্ষে নিহত ২

নাটোরে ট্রাক-ইজিবাইকের সংঘর্ষে নিহত ২

আইসিসির সভায় যোগ দিয়েছেন তামিম ইকবাল

আইসিসির সভায় যোগ দিয়েছেন তামিম ইকবাল

কর্মী নিয়োগে যৌথ পরামর্শক কমিশন গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত প্রতিমন্ত্রীর

কর্মী নিয়োগে যৌথ পরামর্শক কমিশন গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত প্রতিমন্ত্রীর

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App