গঙ্গাচড়ায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে কারণ দর্শানোর নোটিশ
মজিদ কাজল, গঙ্গাচড়া (রংপুর)
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা খাদ্য গুদামে সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে অনিয়ম, দুর্নীতি ও উৎকোচ বাণিজ্যের অভিযোগের পর প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। ভোরের কাগজ-এ সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি আমলে নিয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত চেয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার স্বাক্ষরিত এক পত্রে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোছা. উম্মে কুলছুমা খাতুনকে অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর আগে গত ৭ জুলাই ভোরের কাগজ (অনলাইন)সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে গঙ্গাচড়া উপজেলা খাদ্য গুদামে সরকারি ধান সংগ্রহে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হয়। একই দিনে আলহাজ বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতার রহমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগে বলা হয়, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহের কথা থাকলেও বাস্তবে স্থানীয় ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ও চালকল মালিকদের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। ফলে প্রকৃত কৃষকরা সরকারি নির্ধারিত মূল্যের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
আরও পড়ুন : গঙ্গাচড়ায় খাদ্যগুদামে ধান ক্রয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ
লিখিত অভিযোগে গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম খানের বিরুদ্ধে কৃষকদের ধান গ্রহণে অনীহা, বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতি টনে কয়েক হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী আরো দাবি করেন, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির পেছনে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোছা. উম্মে কুলছুমা খাতুনেরও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ধান সরবরাহকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা যাচাই করা হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলেও তিনি দাবি করেন।
স্থানীয় একাধিক কৃষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরকারি গুদামে ধান বিক্রির জন্য নিবন্ধন করেও তারা কাঙ্ক্ষিত সুযোগ পাননি। অনেককে বারবার গুদামে গিয়ে যোগাযোগ করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে তারা বাজারে কম দামে ধান বিক্রি করেছেন। অন্যদিকে কিছু ব্যবসায়ী সহজেই ধান সরবরাহের সুযোগ পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, অভিযোগের পর প্রশাসনের ব্যাখ্যা তলবের ঘটনায় বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন। স্থানীয়দের দাবি, শুধু লিখিত ব্যাখ্যা গ্রহণেই সীমাবদ্ধ না থেকে ধান সরবরাহকারীদের তালিকা, কৃষক নিবন্ধনের তথ্য, গুদামে জমা হওয়া ধানের উৎস, অর্থ লেনদেনের রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনা হোক। পাশাপাশি অভিযোগের সত্যতা মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। লিখিত জবাব পাওয়ার পর বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
