১৩ জেলায় আকস্মিক বন্যার শঙ্কা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দেশের অন্তত ১৩ জেলায় আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
ইতোমধ্যে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ ও মারকুলি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জের আরো বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যাকবলিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে, উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এসব নদীর তীরবর্তী লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নেত্রকোণার সোমেশ্বরী নদীর পানিও বাড়ছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে নদীটির পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে, ফলে আশপাশের নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
আরো পড়ুন : টানা ৫ দিন দেশজুড়ে ভারী বৃষ্টির আভাস
এদিকে ২০ থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। এতে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের কিছু এলাকায় নদীর পানি সতর্কসীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সোমবার থেকে দেশের কয়েকটি বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত শুরু হতে পারে। আবহাওয়াবিদ আব্দুল হামিদের মতে, এই বৃষ্টিপাত কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে, যা বন্যা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলতে পারে।
আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবিরের সই করা বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বা তারও বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে।
এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ১৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। এছাড়া নীলফামারীর ডিমলায় ৬৩ মিলিমিটার, নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১১০ মিলিমিটার, কক্সবাজারে ৭৫ মিলিমিটার, টেকনাফে ৬২ মিলিমিটার, কুমিল্লায় ৫৫ মিলিমিটার এবং খুলনা ও সন্দ্বীপে ৪৭ মিলিমিটার করে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
