চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৫, ০৪:৩৮ পিএম

ছবি: সংগৃহীত
সংঘাতের ঘটনায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) এবং আশেপাশের এলাকায় সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের পরীক্ষা স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মুমিন এ আদেশ জারি করেন। সেই অনুযায়ী, রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি বলবৎ থাকবে।
এর আগে চবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় একটি গ্রামের মানুষের সংঘর্ষ শুরু হয়। রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে ওই এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন এবং অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের স্টাফ অফিসার ফাহমুন নবী বলেন, ১ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে।
গত শনিবার মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন একটি ভবনের ভাড়াটিয়া এক ছাত্রীর সঙ্গে ভবনের নিরাপত্তারক্ষীর বাগবিতণ্ডার জেরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রী রাত ১১টার দিকে বাসায় ফেরেন। ভবনের গেট বন্ধ থাকায় তিনি প্রহরীকে ডাকাডাকি করেন। এসময় প্রহরী এসে ওই ছাত্রীর সঙ্গে তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে ওই ছাত্রীকে তিনি গালাগাল করেন এবং চড় মারেন।
সেসময় ওই ছাত্রী সহপাঠীদের খবর দেন। তৎক্ষণাৎ সেখানে যান তারা। সেসময় ভবনের নিরাপত্তারক্ষীর পক্ষ নিয়ে গ্রামবাসী শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করের। এতে দুই পক্ষের সংঘর্ষ শুরু হয়। উভয় পক্ষই ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে পরস্পরকে ধাওয়া করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান। এসময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের আঘাত করেন এলাকাবাসী। রাত ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তানভীর মো. হায়দার আরিফ ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে সবার সহযোগিতা চান।
তিনি লেখেন, দুই নম্বরে (গেটে) আমাদের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষে প্রচুর শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। সহকারী প্রক্টর কুরবান আলী স্যার, নাজমুল স্যার ও নিরাপত্তা প্রধান রহিম ভাই আহত। নিরাপত্তা বাহিনীর অনেকেই আহত। প্রক্টোরিয়াল বডি, পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।
রাত সাড়ে ৩টার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা সেখানে গেলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। সেসময় উপউপাচার্য (প্রশাসন) কামাল উদ্দিন বলেন, পর্যাপ্ত পুলিশ আমরা ঘটনাস্থলে পাইনি। র্যাবের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাদের পাইনি। শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনী আসছে। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু তৈয়ব বলেন, রাতে অন্তত ৬০ জন আহত শিক্ষার্থীকে আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি। এর মধ্যে ২১ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রাতভর সংঘর্ষের পর রোববার (৩১ আগস্ট) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। শিক্ষার্থীরাও ক্লাসে যোগ দেননি। রাতে সংঘর্ষের পর স্থানীয় লোকজন সকালে আবার সড়কে অবস্থান নিতে শুরু করে। দুই নম্বর গেট এলাকার বিভিন্ন ভাড়া বাসায় বিশ্ববিদ্যালয়ের যে শিক্ষার্থীরা থাকেন, তারা যার যার বাসায় আটকা পড়েন।
বেলা ১১টার পর ক্যাম্পাস থেকে ছোট ছোট দলে শিক্ষার্থীরা ওই এলাকায় যাওয়া শুরু করেন। ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা একজোট হয়ে দুই নম্বর গেট এলাকায় গেলে ফের স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। সেসময় উপউপাচার্য কামাল উদ্দিনসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের লোকজন পরিস্থিতি শান্ত করতে সেখানে যান। কিন্তু সংঘর্ষের মধ্যে ইটের আঘাতে উপ-উপচার্যসহ শতাধিক শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসী আহত হন।
সোশাল মিডিয়ায় আসা ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গুলি ছুড়তে দেখা যায়। ধানক্ষেতের মধ্যে এক শিক্ষার্থীকে দা দিয়ে কোপাতে দেখা যায় কয়েকজন গ্রামবাসীকে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক সাংবাদিক বলেন, বিকাল ৩টার দিকেও দুই পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছিল। উভই পক্ষ দুই দিকে লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নিয়ে ছিল এবং বৃষ্টির মতো ঢিল ছুড়ছিল।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) রাসেল বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে আছি। এখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছি যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পরিবেশ স্বাভাবিক করা যায়।