ভোরের কাগজে সংবাদ প্রকাশের পর পদ হারালেন শ্রমিকদল নেতা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
‘ভাটারায় বিএনপি-আওয়ামী লীগ যৌথ জুয়া-বাণিজ্য, নীরব প্রশাসন’ শিরোনামে গত ২১ এপ্রিল ভোরের কাগজ অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের পর ওই জুয়ার আসর বন্ধ না হলেও, দলীয় পদ হারিয়েছেন বাড্ডা থানা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান ওরফে ‘ক্যাসিনো আমান’।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার অফিসিয়াল প্যাডে যুগ্ম আহবায়ক মো. মোসলেহ উদ্দিন বাবলু পন্ডিত সাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আমানকে বহিষ্কারের খবর জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ঢাকা মহানগর উত্তর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক কাজী শাহ আলম রাজা এবং সদস্য সচিব কামরুল জামানের সিদ্ধান্ত মোতাবেক অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার কারণে বাড্ডা থানা শ্রমিক দলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানকে সাংগঠনিক পথসহ সাধারণ সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হইল।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ‘অদ্য ২৪/৪/২০২৬ ইং তারিখ হইতে আমান উল্লাহ আমান জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেউ নয়। তার কোন অন্যায় কাজের জন্য জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল দায়ী থাকিবে না এবং আজ থেকে তাকে শ্রমিক দলের কোন কাজে অংশগ্রহণ না করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।’
এদিকে দলীয় পদ হারালেও, জুয়া পরিচালনায় আগের অবস্থান শক্তভাবেই ধরে রেখেছেন ‘ক্যাসিনো আমান’। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভাটারা থানাধীন নয়ানগর কমিশনার রোডস্থ আন-নাজাত মাদ্রাসার বিপরীতে, জনৈক জুয়েল মিয়ার বাড়ির নিচতলায় এখনো প্রতিদিন বসছে ‘আন্দার বাহার’ নামের এই ক্যাসিনো জুয়ার আসর। তিনতলা এই বাড়িটির হোল্ডিং নম্বর ৩৪৯ নয়ানগর, যার নিচতলায় চলছে এই আসর। বাড়িটির নিচে ‘শাকিল মোবাইল হসপিটাল’ নামে একটি মোবাইল যন্ত্রাংশের দোকানও রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ওই জুয়ার আসরে অস্বাভাবিক ভিড় লক্ষ্য করা যায়। গভীর রাত পর্যন্ত চলে টাকার লেনদেন, জুয়ার আসর আর রহস্যময় যাতায়াত।
সবচেয়ে বিতর্কিত অভিযোগটি ওঠে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ঘিরে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ভাটারা থানা পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে এখানে। আর জুয়া পরিচালনাকারীরাও গর্বের সঙ্গে ‘থানায় যোগাযোগ’ রয়েছে বলে দম্ভ করে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বরাবরের মতোই বলেন, ‘আমি অভিযোগ পেয়ে সেখানে টিম পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু তারা এমন কোনো জুয়ার আসর খুঁজে পায়নি’।
