নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, অন্যদিকে শিশুধর্ষণের অভিযোগে চাচা গ্রেপ্তার
সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১০ পিএম
প্রতীকী ছবি
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে ভিকটিমের চাচা নীরবকে (১৮) গ্রেপ্তার করেছে থানা-পুলিশ। গ্রেপ্তার নীরব উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের তেলীখোলা গ্রামের ফরশেদ আলীর ছেলে।
বিষয়টি বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিশ্চিত করেছেন সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম। তিনি আরও বলেন, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারেও জোর চেষ্টা চলছে।
থানা সূত্রে জানা গেছে, বলধারা ইউনিয়নের বাসিন্দা ২৩ বছর বয়সী এক নারী গত ২১ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৯টার দিকে স্বামীর সঙ্গে নিজ শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আনুমানিক ২টার দিকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বের হলে বাড়ির অদূরে টিউবওয়েলের পাশে কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করেন।
এজাহারে ওই নারী অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা তাকে জোরপূর্বক ধরে মুখ চেপে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়ির পূর্বদিকে নিয়ে যায়। পরে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে কয়েকজন মিলে ধর্ষণ করা হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার পর তার হাত-পা বেঁধে এবং মুখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে তাকে ফেলে রেখে যায় অভিযুক্তরা। পরে তার চাচা-শ্বশুর তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান বলে জানা গেছে।
ওই নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের সবার মুখ কালো কাপড়ে ঢাকা ছিল। তাদের পরণে ফুলপ্যান্ট ও ফুলহাতা শার্ট ছিল এবং বয়স আনুমানিক ১৫ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে হতে পারে। মরিচের গুঁড়ার কারণে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তিনি ২২ সেপ্টেম্বর সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। বর্তমানে তাকে পুলিশ হেফাজতে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, উপজেলার তেলীখোলা এলাকায় ২ বছর ৪ মাস বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে তার আপন ছোট ভাই নীরবের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন শিশুটির বাবা। এজাহারে বলা হয়, গত ২২ সেপ্টেম্বর সকালে বাদী কাজে চলে যান। এ সময় তার স্ত্রী ও ছোট মেয়ে বাড়িতে ছিলেন। ওই দিন বেলা ১১টার দিকে শিশুটিকে তার চাচা নীরব দাদার বাড়িতে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে দুপুরের দিকে শিশুটির কান্নার শব্দ শুনে তার মা সেখানে গেলে নীরবকে ঘর থেকে বের হতে দেখেন। শিশুটির শারীরিক ও আচরণগত অবস্থায় সন্দেহ হলে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানান।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, শিশুটিকে প্রথমে সিংগাইরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসক দেয়া হয়। পরে সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং গুরুতর অবস্থায় মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। বর্তমানে শিশুটি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রেজাউল করিম বলেন, ভিকটিমকে পুলিশ হেফাজতে ওসিসিতে পাঠানো হয়েছে। আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
