যেকারণে বাড়ছে তরুণদের কোলন ক্যানসার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬, ০১:৫৪ পিএম
কম বয়সিদের মধ্যে কোলন বা বৃহদন্ত্রের ক্যানসার বাড়ছে। ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে গবেষকেরা খুঁজে দেখছেন কেন কম বয়সিদের মধ্যে কোলন বা বৃহদন্ত্রের ক্যানসার বাড়ছে। এখন আর ক্যানসার কেবল বৃদ্ধ বয়সের রোগ, এ ধারণা ভেঙে গেছে। বিভিন্ন সমীক্ষা বলছে, ত্রিশ থেকে চল্লিশ বছর বয়সীদের মধ্যেই কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে। এর পেছনে শুধু অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসই নয়, বরং বৃহদন্ত্রের গঠনগত ত্রুটি ও জিনগত পরিবর্তনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই বিষয়ে একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে বৈজ্ঞানিক সাময়িকী অ্যাডভান্সড সায়েন্সে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা জানিয়েছেন, বয়স্কদের তুলনায় কম বয়সিদের বৃহদন্ত্রের কোষ অনেক সময় বেশি শক্ত ও পুরু হয়ে যায়। ফলে ওই কোষগুলোর অস্বাভাবিক বিভাজনের সুযোগ তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে কোষে ক্ষত বা ফাইব্রোসিসও দেখা যায়, যা ক্যানসার সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।
আরো পড়ুন : সোরিয়াসিস কি শুধুই চর্মরোগ?
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাউথওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরাও একই মত দিয়েছেন। তাঁদের মতে, কোষের দেয়াল শক্ত ও পুরু হয়ে যাওয়ার পেছনে অতিরিক্ত কোলাজেন জমা হওয়ার বিষয়টি দায়ী হতে পারে। তবে কেন কম বয়সিদের বৃহদন্ত্রে এত বেশি কোলাজেন জমা হয়, তা এখনো গবেষণাধীন।
গবেষকেরা ‘মাইক্রোইনডেন্টেশন টেস্ট’ নামে একটি বিশেষ পরীক্ষা করে বিষয়টি যাচাই করেছেন। এই পরীক্ষায় পঞ্চাশোর্ধ্ব ১৯ জন এবং পঞ্চাশের নিচে বয়সী ১৪ জনের বৃহদন্ত্রের কোষ পরীক্ষা করা হয়। এতে দেখা গেছে, অনেকের কোষেই ক্ষত তৈরি হয়েছে এবং কোষের দেয়াল অস্বাভাবিকভাবে শক্ত হয়ে গেছে, যা ক্যানসার হওয়ার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
তবে বিজ্ঞানীরা মনে করেন, শুধু খাদ্যাভ্যাসের কারণে এই সমস্যা তৈরি হচ্ছে না। জিনগত পরিবর্তন বা মিউটেশনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নির্দিষ্ট কিছু জিনের পরিবর্তনের কারণে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। এর মধ্যে রয়েছে এপিসি, এমএলএইচ১, এমএসএইচ২, পিএমএস২ ও ইপিসিএএম জিন। এসব জিনের গঠনে কোনো পরিবর্তন ঘটলে ক্যানসারের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। গবেষকেরা এখন খতিয়ে দেখছেন কোন জিনগুলো বৃহদন্ত্রের কোষে এই পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। সেসব জিন শনাক্ত করা গেলে ভবিষ্যতে ক্যানসার হওয়ার আগেই প্রতিরোধের পথ বের করা সম্ভব হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোলন ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে এর চিকিৎসা সম্ভব। তবে রোগটি শরীরের অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়লে তা অনেক বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। গবেষকেরা আরো জানিয়েছেন, কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত কোষগুলো আলাদা করে শনাক্ত করা যায়। এগুলোকে ‘স্পেশাল মার্কার’ বলা হয়, কারণ এসব কোষের গঠনে বিশেষ ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়। এই পরিবর্তনের মূল কারণও জিনগত হতে পারে। যদি জিনগত পরিবর্তন প্রতিরোধ করা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকিও অনেকটাই কমানো সম্ভব হতে পারে।
