বন্ধ কারখানা চালু-অর্থনীতি সচলে
৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করলেন গভর্নর
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ০৫:২১ পিএম
বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
বন্ধ কারখানা চালু ও অর্থনীতি ‘সক্রিয় করতে’ ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণ প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।
এই ঋণ প্যাকেজের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকার ‘রিফাইন্যান্স’ (পুনঃঅর্থায়ন) তহবিল গঠন করা হবে বাণিজ্যিক ব্যাংকে থাকা অতিরিক্ত তারল্য থেকে। বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকার তহবিল দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
শনিবার (২৩ মে) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম মিলনায়তনে ঋণ প্যাকেজের নানা দিক তুলে ধরেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।
তিনি বলেন, “৬০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৪০ হাজার কোটি টাকা অর্থনীতি ‘সক্রিয় করতে’ ব্যয় হবে। ২০ হাজার কোটি টাকা থাকবে বন্ধ কারখানার জন্য।”
ঋণের ৪১ হাজার কোটি টাকার ‘গ্যারান্টার’ থাকবে সরকার। ঋণ প্যাকেজ বাস্তবায়ন হলে সারাদেশে ২৫ লাখের বেশি কর্মসংস্থান হবে বলে আশা গভর্নরের।
ঋণের সুদহার, বিস্তারিত বর্ণনা ও শর্ত তুলে ধরে শনিবারই সার্কুলার দেওয়া হবে জানিয়েছেন গভর্নর।
গভর্নর আরো বলেন, উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানো, জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ানো, রপ্তানি বাড়ানো আমাদের লক্ষ্য। ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফেরানো আমাদের লক্ষ্য।
গত ফেব্রুয়ারিতে গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে প্রথমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন মোস্তাকুর রহমান।
এর আগে গত ২৯ মার্চ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পত্রিকা, অনলাইন ও টিভি চ্যানেলের বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন গভর্নর।
কোন খাতে কত তহবিল
৪১ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের মধ্যে- বন্ধ শিল্প কারখানা ও সেবা খাতে দেওয়া হবে ২০ হাজার কোটি টাকা। সিএমএসএমই খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ১০ হাজার কোটি টাকা, রপ্তানি বহুমুখীকরণে ৩ হাজার কোটি টাকা, উত্তরবঙ্গকে কৃষি হাব হিসেবে গড়ে তুলতে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব ১৯ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকগুলোকে ৪ শতাংশ সুদে দেওয়া হবে। ব্যাংকগুলো গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ দেবে। পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের মধ্যে- রপ্তানি খাতের জন্য প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিটে ৫ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হবে। কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে ২ হাজার কোটি টাকা, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানে এক হাজার কোটি টাকা, গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এক হাজার কোটি টাকা, হিমায়িত মাছ ও মাছ রপ্তানি খাতে দুই হাজার কোটি টাকা, পরিবেশবান্ধব বা গ্রিন বিনিয়োগে এক হাজার কোটি টাকা, বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য এক হাজার কোটি টাকা, স্টার্টআপ খাতে ৫০০ কোটি টাকা এবং সৃজনশীল অর্থনীতি বা ক্রিয়েটিভ ইকোনমিতে ৫০০ কোটি টাকা। সৃজনশীল অর্থনীতির এই ৫০০ কোটি টাকা সিএসআরের আওতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক খরচ করবে।
