দেশীয় বস্ত্রখাতের জন্য বড় সুখবর
পোশাক রপ্তানিতে নগদ সহায়তা বেড়ে ৫ শতাংশ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দেশীয় বস্ত্র ও তৈরি পোশাক শিল্পের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখতে নগদ সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্রখাতের জন্য শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাক সুবিধার বিকল্প হিসেবে দেওয়া নগদ সহায়তার হার এক লাফে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ-১ এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে। নতুন এই সিদ্ধান্তকে তৈরি পোশাক (আরএমজি) ও বস্ত্রখাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সার্কুলার অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রপ্তানিকৃত পণ্যের বিপরীতে ৫ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। এ সুবিধা ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে জাহাজীকৃত (শিপমেন্টকৃত) পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
তবে এই সুবিধা পেতে রপ্তানিকারকদের কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে। আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানকে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ অথবা সংশ্লিষ্ট খাতের স্বীকৃত কোনো অ্যাসোসিয়েশনের বৈধ সদস্য হতে হবে। পাশাপাশি দেশীয় উৎস থেকে সুতা, কাপড়সহ প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহের বৈধ প্রমাণপত্রও জমা দিতে হবে।
এ ছাড়া ২০০১ ও ২০০৩ সালের সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রা সার্কুলারের অন্যান্য বিদ্যমান নির্দেশনা ও বিধান আগের মতোই কার্যকর থাকবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ সিদ্ধান্ত দেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্পে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এতে রপ্তানিকারকেরা দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহারে আরও উৎসাহিত হবেন, যা স্থানীয় মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি এবং দেশীয় বস্ত্রশিল্পের বিকাশে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা এবং শিল্পখাতকে গতিশীল রাখতে বর্ধিত এই নগদ সহায়তা দেশের অর্থনীতির জন্য কার্যকর প্রণোদনা হিসেবে কাজ করবে।
