×

অর্থনীতি

গ্যাস-বিদ্যুতে স্বস্তির আভাস, কাটেনি শঙ্কা

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২৯ এএম

গ্যাস-বিদ্যুতে স্বস্তির আভাস, কাটেনি শঙ্কা

ছবি : সংগৃহীত

সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে চলমান ‘অতি সংকট পরিস্থিতি’ থেকে ধীরে ধীরে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। গত দুই সপ্তাহের তুলনায় চলতি সপ্তাহে গ্যাস ও বিদ্যুতের চাহিদা-সরবরাহের ঘাটতি কমেছে। তবে রাজধানী ও বড় শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং এখনো বেশি। এর মধ্যেই সৌদি আরামকোর একটি এলএনজি কার্গো গ্রহণ না করায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, রোববার দিবাগত রাত ১টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ২৭৬ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১৪ হাজার ৪৭৪ মেগাওয়াট। ফলে ওই সময়ে ৮০২ মেগাওয়াট লোডশেডিং ছিল।

সোমবার দুপুর ১২টায় বিদ্যুতের চাহিদা দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৮১০ মেগাওয়াট। এ সময় সরবরাহ হয়েছে ১৩ হাজার ৯১৭ মেগাওয়াট। সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ৮৯৩ মেগাওয়াট। গত দুই সপ্তাহে একই সময়ে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হয়েছিল। সে হিসাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

পেট্রোবাংলার তথ্য বলছে, শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে প্রায় ২৪২ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। তবে সোমবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত সরবরাহ কমে দাঁড়ায় ২২২ কোটি ঘনফুটে। এর মধ্যে স্থানীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে এসেছে ১৬১ দশমিক ৫ কোটি ঘনফুট এবং এলএনজি থেকে রূপান্তরিত গ্যাস ছিল ৬০ দশমিক ৫ কোটি ঘনফুট।

দেশে প্রতিদিন প্রায় ৪১০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। সাধারণত ৩১০ থেকে ৩২০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা গেলে শিল্পসহ বিভিন্ন খাত কোনোভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়। কিন্তু সরবরাহ এর নিচে নেমে গেলে সংকট দ্রুত তীব্র হয়ে ওঠে। গত সপ্তাহে গ্যাস সরবরাহ ২০০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে গেলেও পরে তা আবার ২৪৪ কোটি ঘনফুটে ওঠে। সরবরাহ বাড়ায় ঘাটতি কিছুটা কমলেও শিল্প খাতে উৎপাদন এখনো কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় ফিরতে পারেনি।

গ্যাস সংকটেই বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় চাপ

দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় একটি অংশ গ্যাসনির্ভর। ফলে গ্যাসের সরবরাহ কমে গেলে সরাসরি প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদনে। সম্প্রতি মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালগুলোর সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকেও কয়েক দিন গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল। এতে গ্যাসের ঘাটতি বেড়ে যায় এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গিয়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং শুরু হয়। এর আগে ২১ জুলাই কারিগরি সমস্যার কারণেও পেট্রোবাংলার এলএনজি টার্মিনালের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছিল।

সব মিলিয়ে প্রায় এক মাস ধরে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত চাপের মধ্যে রয়েছে।

গ্রামাঞ্চলে কমেনি ভোগান্তি

বিদ্যুৎ ঘাটতির সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে গ্রামীণ এলাকায়। রাজধানী ও বড় শহরে সরবরাহ তুলনামূলক স্বাভাবিক রাখতে গিয়ে জেলা ও পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন এলাকায় বেশি লোডশেডিং হচ্ছে।

গত কয়েক দিনে গ্রামে লোডশেডিং কিছুটা কমেছে। এর পেছনে এলএনজি সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি বৃষ্টির কারণে বিদ্যুতের সামগ্রিক চাহিদা কমে যাওয়াকে কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে তাপমাত্রা বাড়লে আবারও বিদ্যুৎ সংকট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

৬১ হাজার টন এলএনজি নিয়ে নতুন উদ্বেগ

চলমান সংকটের মধ্যেই আমদানি করা একটি এলএনজি কার্গো নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সৌদি আরামকোর সরবরাহ করা প্রায় ৬১ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘আল হামরা’ নামের একটি জাহাজ মহেশখালীতে পৌঁছালেও পেট্রোবাংলা সেটি গ্রহণ করেনি।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৯ বছর পুরোনো জাহাজটি প্রয়োজনীয় কারিগরি ও নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ করতে না পারায় সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কার্গো খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরে শনিবার জাহাজটি ফিরে যায়। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে এর পরিবর্তে অন্য একটি কার্গো পাঠাতে বলা হয়েছে।

 আরও পড়ুন: নতুন পে-স্কেল ঘোষণা কবে, জানালেন অর্থমন্ত্রী

তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে দেশে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা নেই। অন্যান্য কার্গো নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আসার কথা রয়েছে এবং প্রত্যাখ্যাত কার্গোর বিকল্পও সরবরাহ করা হবে।

তারপরও ঘটনাটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার দুর্বলতা নতুন করে সামনে এনেছে। কারণ টার্মিনাল সচল থাকলেও সময়মতো পর্যাপ্ত এলএনজি কার্গো না এলে এর পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানো সম্ভব হবে না।

এদিকে দেশে এলএনজি সরবরাহ বাড়াতে কাতারের সঙ্গেও আলোচনা করতে যাচ্ছে সরকার। ফলে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির সাম্প্রতিক উন্নতি কতটা স্থায়ী হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে নিয়মিত এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

দেশের বাজারে কত করে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণে ভরি

দেশের বাজারে কত করে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণে ভরি

পে-স্কেলের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে স্বাক্ষর, বেতন বাড়ছে কার কত

পে-স্কেলের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে স্বাক্ষর, বেতন বাড়ছে কার কত

বিয়ের খবরে ক্ষুব্ধ পূজা চেরি, আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি

বিয়ের খবরে ক্ষুব্ধ পূজা চেরি, আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি

‘ভূতের’ ভয়ে হোস্টেল ছাড়লেন ৬০০ শিক্ষার্থী

‘ভূতের’ ভয়ে হোস্টেল ছাড়লেন ৬০০ শিক্ষার্থী

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App