ঢাবির তিন শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। একই সঙ্গে একজন শিক্ষককে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া একই অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তাকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) রাতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সিন্ডিকেট সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সিন্ডিকেট সূত্রে জানা গেছে, জুলাই অভ্যুত্থানের সময়কার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে ওঠা অভিযোগের কারণে লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন এবং ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমল হোসেন ভূঁইয়াকে সাময়িকভাবে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
একই ধরনের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা মুহাম্মদ লাভলু মোল্লা (লাভলু মোল্লা শিশির) সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন।
অন্যদিকে, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক এরশাদ হালিমের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তাকে চাকরিচ্যুত করার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। সিন্ডিকেট সভায় সেই সুপারিশ অনুমোদন পেয়েছে।
সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, সাময়িক বরখাস্ত হওয়া তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ ছিল। এছাড়া অধ্যাপক আজমল হোসেন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়া এবং নারী শিক্ষার্থীদের পোশাক নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে। একাডেমিক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তাকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
সভায় ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে নির্বাচিত গোলাম রাব্বানীর ছাত্রত্ব বৈধ ছিল কি না, সে বিষয়ে আলোচনাও হয়। উপ-উপাচার্য জানান, তার জিএস পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত আইন উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, গোলাম রাব্বানীর পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া রাশেদ খানকে জিএস ঘোষণা করা সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়েও আইনগত মতামত চাওয়া হয়েছে।
