ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা, নগদ টাকা ও স্বর্ণলকার লুট
সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৭:২৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এক কাপড় ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা, আসবাবপত্র তছনছ, নগদ টাকা ও স্বর্ণলকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বুরুমদী গ্রামের রিয়াদ কবিরের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় একটি আইডি কার্ড ফেলে যায়। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী বাদী হয়ে আজ মঙ্গলবার সকালে সোনারগাঁও থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
জানা যায়, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বুরুমদী গ্রামের ইকবাল কবিরের ছেলে রিয়াদ কবিরের বাড়িতে একই এলাকার পিয়ার হোসেন, মাসুম, শফিকুল ইসলাম, আল-আমিন (৪৮), লিটন হোসেন, ফর্মা হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন নিয়ে হামলা করে।
এ সময় নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ব্যবসায়ী রিয়াদ কবিরকে মারধর করে। একপর্যায়ে বাড়িতে মাদক রয়েছে বলে আমার ঘরবাড়ির আসবাবপত্র তল্লাশি করে। আসবাবপত্র তছনছ করে নগদ ৪ লাখ টাকা নিয়ে যায়। পরে মামলা ও গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়ে তারা চলে যায়। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় তাদের একটি আইডি কার্ড ফেলে যায়। আইডি কার্ডে অজয় কুমার জয়, পদবি-সেপাই, ডিপার্টমেন্ট অব নারকোটিক্স কন্ট্রোল বাংলাদেশ, আইডি নং- ৪৯১৩২৫, জাতীয় পরিচয়পত্র নং- ৪২১৮৯৫৩৪৮৯ পাওয়া যায়।
ফেলে যাওয়া আইডি কার্ড ফেরত দেওয়ার জন্য শরীফ হোসেন নামের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক সিপাহি পরিচয়ে আইডি কার্ড ফেরত দেওয়ার জন্য হুমকি প্রদান করে। এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সিপাহি শরীফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আইডি কার্ড ফেরতের জন্য কাউকে ফোন দেননি বলে দাবি করেন। তবে অভিযানের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
ব্যবসায়ী রিয়াদ কবির জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরে এলাকার একটি চক্র পুলিশের সোর্সের মাধ্যমে তার পরিবারকে হয়রানি করার জন্য বাড়িতে হামলা করে। মাদক উদ্ধারের নামে আসবাবপত্র তছনছ করে। হামলাকারীরা নগদ ৪ লাখ টাকা নিয়ে যায়। ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ও হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযুক্ত পিয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেন। তিনি জানান, তিনদিন ধরে ওই এলাকায় তিনি যাননি। কেউ তাকে দেখেছেন, প্রমাণ দিতে পারবে না। তবে শুনেছি প্রশাসনের লোকজনকে রিয়াদ ও তার পরিবারের লোকজন মারধর করেছে।
সোনারগাঁও থানার ওসি মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ডিবি পুলিশের নাম ব্যবহার করে হয়রানি মারাত্মক অপরাধ। আসল ঘটনা উদ্ঘাটনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
