ইউক্রেন যুদ্ধ তিন বছরে, সামনে আরো দীর্ঘ লড়াইয়ের শঙ্কা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৪:৩৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
তিন বছরে পা দিতে চলেছে ইউক্রেন যুদ্ধ। এই দীর্ঘ সময়ে রণক্ষেত্রে ব্যাপক অংশ হারিয়েছে দেশটি। যুদ্ধের ক্লান্তি ও শারীরিক পরিশ্রান্তির ছাপ স্পষ্ট ইউক্রেনের সেনাবাহিনীতে। তবুও পূর্বাঞ্চলে রুশ সেনাদের অগ্রগতি রুখতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। তবে কুরাখোভ শহরের কাছে রুশ বাহিনীর শক্ত অবস্থানের কারণে অনেক ইউক্রেনীয় সেনা আটকা পড়েছে।
ট্রাম্পের ক্ষমতা নেয়ায় কিয়েভের সংকট
আগামী মাসে যুদ্ধবিরোধী হিসেবে পরিচিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে প্রত্যাবর্তন কিয়েভের জন্য নতুন শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামরিক সহায়তা কমে আসতে পারে, এমন আশঙ্কা ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে যে, ইউক্রেন আর কতদিন এই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে।
সেনাদের চোখে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ
৩১ বছর বয়সী কমান্ডার সুরাত, যিনি রুশ হামলার পর ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন, ভয়েস অব আমেরিকাকে জানান, যুদ্ধের শুরুতে তিনি ভেবেছিলেন এটি তিন বছর চলতে পারে। এখন তার ধারণা, হয়তো আরও ১০ বছর যুদ্ধ চালাতে হতে পারে। যদিও ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ইচ্ছাকে তিনি উড়িয়ে দেন না, তবে কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছাতে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বলেই মনে করেন।
সুরাত আরো বলেন, আমি বাস্তববাদী থাকতে চাই। এখানে ইউক্রেনের জন্য কোনো ন্যায়বিচার অপেক্ষা করছে না। তবু আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।
একজন সেনাসদস্য মন্তব্য করেন, আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ সাময়িকভাবে বন্ধ হতে পারে, তবে এক-দুই বছরের মধ্যেই তা আবার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্য এক সেনা বলেন, ইউক্রেনবিহীন পৃথিবীতে বেঁচে থাকার চেয়ে আমি জয়ের জন্য মৃত্যুকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।
ডেনিপ্রোর বাস্তবতা ও জনগণের মতামত
ইউক্রেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর ডেনিপ্রোতে ক্রমাগত রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চলছে। সেখানকার বাসিন্দারা মনে করেন, ইউক্রেনের উচিত যুদ্ধ বন্ধ করে আলোচনা শুরু করা। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, যুদ্ধের চেয়ে আলোচনার প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন বাড়ছে। বিশেষ করে নারীরা বিশ্বাস করেন, এই যুদ্ধে কোনো পক্ষই সামরিকভাবে বিজয় অর্জন করতে পারবে না।
নারীদের ত্যাগ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার মূল্য
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উভয় পক্ষের আলোচনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করতে হবে ইউক্রেনের নারীদের। যুদ্ধে তারা হারিয়েছেন তাদের বাবা, ভাই, স্বামী ও সন্তানদের। শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য হয়তো ইউক্রেনকে তার কিছু ভূমি ছেড়ে দিতে হতে পারে।
এই যুদ্ধ যে সামরিক সমাধান দিয়ে শেষ হবে না, সে ইঙ্গিত ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। আলোচনার পথেই হয়তো এর সমাপ্তি টানার পথ খুঁজতে হবে উভয় পক্ষকে।
