×

ইউরোপ

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমাচ্ছে ইউরোপ

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:০০ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমাচ্ছে ইউরোপ

ছবি : সংগৃহীত

মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে নিজেদের নিরাপত্তা নীতি পুনর্বিন্যাসের সংকল্প ব্যক্ত করেছেন ইউরোপীয় নেতারা। ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উর্সুলা ফন ডার লেইয়েন বলেছেন, কিছু সীমা অতিক্রম করা হয়েছে, যা আর ফিরিয়ে আনা যাবে না।

গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজে প্রত্যাবর্তন এবং তাঁর গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রস্তাব ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ককে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলে দিয়েছে। এতে ইউরোপের মধ্যে নাটো প্রতিরক্ষা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিয়ে সন্দেহ বেড়ে গেছে। খবর রয়টার্সের।

ইউরোপীয় নেতারা আশঙ্কা করছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র আর আগের মতো ইউরোপের নিরাপত্তার গ্যারান্টার হিসেবে নির্ভরযোগ্য নাও থাকতে পারে। হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর ট্রাম্প বারবার অভিযোগ করেছেন, ইউরোপীয় দেশগুলো ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যয়ে যথেষ্ট অবদান রাখছে না এবং জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

যদিও কনফারেন্সে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইউরোপকে সীমিত আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের সঙ্গে কাজ করতে চায়। তবে ইউরোপের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ধারা নিয়ে সমালোচনা করেছেন। এ সময় তারা ন্যাটো, রাশিয়া বা ইউক্রেনে যুদ্ধ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

ইউক্রেন- রাশিয়া যুদ্ধের পঞ্চম বছরে এসে রাশিয়াকে ক্রমবর্ধমান হুমকি হিসেবে দেখছে ইউরোপীয় নেতারা। একইসঙ্গে নিজেদের সশস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর অঙ্গীকার করেছেন।

আরো পড়ুন : দুর্নীতির মামলায় ইউক্রেনের সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী গ্রেপ্তার

ন্যাটোর মতো একটি শক্তিশালী ইউরোপীয় স্তম্ভ গঠন করতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরজ, ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমমানুয়েল ম্যাক্রন এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কির স্টারমার মিউনিখ।

মেরজ বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখে, এই নতুন সূচনা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। আমাদের নিজেদের নিরাপত্তা আমরা নিজেরাই নিশ্চিত করতে না পারলে এটি অপরিহার্য। তিনি আরো জানিয়েছেন, ম্যাক্রনের সঙ্গে ইউরোপীয় নিউক্লিয়ার প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। ফ্রান্স ছাড়া ইউরোপে স্বাধীন নিউক্লিয়ার শক্তি নেই। তবে ব্রিটিশ ট্রাইডেন্ট ক্ষেপণাস্ত্রগুলো যুক্তরাষ্ট্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

রাশিয়ার হুমকি এবং ট্রাম্পের পরামর্শে ইউরোপীয় দেশগুলো প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি করেছে। ন্যাটো সদস্যরা গত বছর মূল প্রতিরক্ষায় জিডিপির ২% থেকে ৩.৫% এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিনিয়োগে আরো ১.৫% ব্যয় বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

উর্সুলা ফন ডার লেইয়েন বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের আগে থেকে ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা ব্যয় প্রায় ৮০% বৃদ্ধি পেয়েছে। ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড ও সুইডেন যৌথভাবে ইউরোপীয় লং-রেঞ্জ স্ট্রাইক অ্যাপ্রোচ প্রকল্পের মাধ্যমে ডীপ স্ট্রাইক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে। এছাড়া ব্যলিস্টিক মিসাইল প্রতিরক্ষা ও এয়ার-লঞ্চড মিউনিশনসহ চারটি প্রকল্পে ইউরোপীয় দেশগুলো যৌথভাবে কাজ করবে।

কনফারেন্সে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুদ্ধের কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরেন। গত মাসে ৬,০০০ ড্রোন ও ১৫০ রকেট দ্বারা ইউক্রেন আক্রমণ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই যুদ্ধে অস্ত্রের উন্নয়ন রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের চেয়ে দ্রুত হচ্ছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ইউরোপ থেকে ৩৫ বাংলাদেশিকে ফেরত

ইউরোপ থেকে ৩৫ বাংলাদেশিকে ফেরত

মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি

মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি

ট্রাম্প জামাতার ফোন হ্যাক, মিলল ‘মধ্যপ্রাচ্য পুনর্গঠনে’র নীল নকশার ইঙ্গিত

ট্রাম্প জামাতার ফোন হ্যাক, মিলল ‘মধ্যপ্রাচ্য পুনর্গঠনে’র নীল নকশার ইঙ্গিত

সোনা ও রুপার দাম আরও কমল

সোনা ও রুপার দাম আরও কমল

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App