×

শিশুস্বাস্থ্য

হামের প্রকোপ

সংক্রমণ আরো বাড়ার ঝুঁকি

Icon

সেবিকা দেবনাথ

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম

সংক্রমণ আরো বাড়ার ঝুঁকি

ছবি : সংগৃহীত

দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম চলছে, নেয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ, কিন্তু এরপরও কমছে না হামের প্রকোপ। উল্টো আক্রান্ত ও মৃতের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। কিন্তু এরপরও কমছে না হামের প্রকোপ। এদিকে চলমান বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শেষ হচ্ছে আজ বুধবার। এরই মধ্যে প্রথম ডোজ সম্পন্ন হয়েছে অনেক শিশুর। অনেকে আবার দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায় রয়েছেন। প্রথম ডোজ পাওয়া শিশুদের জন্য টিকার দ্বিতীয় ডোজ কবে থেকে শুরু হবে সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, বিষয়টি যাচাই বাছাই করে জাতীয় টিকাদান-সংক্রান্ত কারিগরি উপদেষ্টা গ্রুপের (নাইট্যাগ) পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু ঠেকাতে দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় ৫ এপ্রিল থেকে হাম-রুবেলা টিকা ক্যাম্পেইন শুরু করে সরকার। পরবর্তী সময়ে ১২ এপ্রিল ৪টি সিটি করপোরেশন এবং ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী সর্বাত্মক টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এই টিকাদান কর্মসূচি শেষ হচ্ছে আজ ২০ মে। এই টিকা ক্যাম্পেইনে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী ১ কোটি ৮৩ লাখ ১৩ হাজার ৩৩ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়। বিশেষ এই কর্মসূচিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি (১০৪ শতাংশ) টিকা দেয়া হলেও প্রতিদিন হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এরপরও যারা বাদ পড়েছে তারা যাতে টিকা নিতে কেন্দ্রে যান।

এদিকে কয়েক দিন আগে টিকাদান পরিস্থিতি দ্রুত যাচাই পদ্ধতি (আরসিএম) থেকে ইউনিসেফ বলছে, এখনো শহর এলাকায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ এবং গ্রাম এলাকায় ১৫ শতাংশ শিশু টিকা পায়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের টিকা বা টিকা দেয়ার পর শরীরে এর কার্যকারিতা বা অ্যান্টিবডি তৈরি হতে কমপক্ষে দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগে। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম শুরুর এক সপ্তাহের মাথায়, অর্থাৎ গত ২৭ এপ্রিল লক্ষ্যমাত্রার ৯৮ শতাংশ টিকা কাভারেজ সম্পন্ন হয়। এছাড়া, সিটি করপোরেশনগুলোতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ শতাংশ বেশি টিকা দেয়া হয়েছে। কিন্তু এর ৩ সপ্তাহ পার হওয়ার পরও প্রতিদিন গড়ে প্রায় দেড় হাজার শিশু হামে আক্রান্ত হচ্ছে।

এদিকে গবেষণায় দেখা গেছে, টিকা দেয়ার পর ৭০ শতাংশের শরীরে যথাযথ কাজ করে। বাকিদের শরীরে অন্য জটিলতা থাকায় টিকা দেয়ার পরও হামে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচিতে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের টিকা দেয়া হচ্ছে। চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, ৬ থেকে ৯ মাস বয়সী শিশুদের শরীরে এই টিকার কার্যকারিতা প্রায় ৫০ শতাংশ এবং ৯ থেকে ১২ মাস বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে তা প্রায় ৮৫ শতাংশ কাজ করে।

এই পরিস্থিতিতে আসন্ন কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে মানুষের ব্যাপক স্থানান্তরের কারণে হামে আক্রান্তের হার আরো বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এ কারণে অভিভাবকদের উদ্দেশে তাদের বার্তা হলো- যেসব শিশু শারীরিকভাবে অপুষ্টিতে ভুগছে বা কিছুটা অসুস্থ, তাদের নিয়ে এই ঈদে ভ্রমণ না করাই উত্তম। এতে ওই শিশুর নিজের যেমন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হবে, তেমনি তার সংস্পর্শে আসা সুস্থ শিশুরাও ঝুঁকিতে পড়বে।

টিকাদান কার্যক্রম চলমান থাকার পরও কেন পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না- এমন প্রশ্নে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামে এত শিশুর মৃত্যুতে পুষ্টিহীনতাও একটি অন্যতম কারণ। হামে আক্রান্ত শিশুদের মায়েদের অধিকাংশই পুষ্টিহীনতায় ভুগছেন আর মায়ের সেই পুষ্টিহীনতার কারণে শিশুও অপুষ্টিতে ভুগছে, যা হামে মৃত্যুর অন্যতম কারণ। এছাড়া শিশুরা হামের সঙ্গে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্তদের সঠিকভাবে আইসোলেশন করতে না পারায় এর মাত্রা বেড়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানোর দিকেও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

শিশুদের টিকা দেয়ার পরেও হাম ছড়ানোর কারণ দ্রুত খুঁজে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রাকিবুল ইসলাম। তিনি নিজেও হাম ছড়ানো বিষয়ে ২০১১ সালের পরে গবেষণায় অংশ নিয়েছিলেন। টিকাদান কার্যক্রমের পরেও যেহেতু হাম ছড়াচ্ছে সেক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ে জরুরি নজর দেয়া জরুরি বলে মনে করেন এই চিকিৎসক। সেগুলোর কোনটি স্বল্পমেয়াদি কোনটি দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে, কিন্তু চিহ্নিত করতে পারা দরকার বলে মনে করেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ডা. রাকিবুল ইসলাম বলেন, ২০১২-১৩ সালের দিকে কেরানীগঞ্জ থেকে প্রচুর হামের রোগীর খবর আসতে থাকে। সেসময় আমরা একটা গবেষণা করেছিলাম। বর্তমানে হামের প্রকোপ বাড়ার কারণ নিয়ে গবেষণা করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি। বলেন, জীবাণু মিউটেশন হতে পারে, টিকার কার্যকারিতা কতখানি সেটাও দেখতে হবে। এমনকি টিকা সংরক্ষণের প্রক্রিয়া ঠিক আছে কিনা সেটিও দেখার বিষয়। নিয়মিত টিকার ব্যবস্থা করা হলেও তাতে শিশুর হাম প্রতিরোধের ক্ষমতা তৈরি হচ্ছে কিনা এ বিষয়েও গবেষণা হতে হবে। 

তিনি বলেন, হাম বরাবরই মারাত্মক। এর কারণে নিউমোনিয়া হয়ে গেলে সেটা ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। যাদের হাম হয়ে গেছে, তাদের যথাযথ চিকিৎসাটা দিতে হবে। যাদের টিকা দেয়ার বয়স হয়েছে তাদের দ্রুত টিকা দিতে হবে। টিকার কার্যকারিতা, টিকা দেয়া হয়েছে কিনা, সংরক্ষণের পরিবেশে কোনো সমস্যা কিনা এসব গবেষণাও করতে হবে, সেটা পরের ধাপ। 

রোগতত্ত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রোগতত্ত্ব, রোগের প্রাদুর্ভাব ও মহামারি-বিষয়ক বিভিন্ন কমিটিতে কাজ করার অভিজ্ঞতাও আছে তার। তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, সারাবিশ্বে হামের প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের মতো এত মৃত্যুহার বাড়েনি। দেশের চলমান হামের প্রাদুর্ভাব আরো এক থেকে দুই মাস থাকবে। এরপর কমতে শুরু করবে। তবে এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করতে হবে, আজকে (মঙ্গলবার) যারা মারা গেছে তারা কিন্তু আগের দিন (রবি/ সোমবার) সংক্রমিত হয়েছে বিষয়টি কিন্তু তেমন নয়। তারা সংক্রমিত হয়েছে এক থেকে দেড় মাস আগে। এতদিন হাসপাতালে থেকে মারা গেছে। 

এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আরো বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে, হামে আক্রান্তের একটি অন্যতম কারণ কিন্তু অপুষ্টি। মানুষ যেখানে বেঁচে থাকতে হিমশিম খায় সেখানে কিভাবে তারা পরিবারের পুষ্টি নিশ্চিত করবে? বস্তিবাসী কেউ হামের লক্ষণ নিয়ে সন্তানকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে, হাসপাতাল থেকে বলা হচ্ছে বাসায় নিয়ে যান পরিস্থিতির অবনতি হলে নিয়ে আসবেন। এর মানে কী? আমরা অবনতির দিকে কাউকে ঠেলে দিচ্ছি? বস্তিতে কিংবা নিম্ন আয়ের মানুষ যেখানে ঠিকমতো তিন বেলা খেতে পারে না তারা কিভাবে বাড়িতে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা করে কোয়ারেন্টাইন করবে? এই সমস্যার সমাধানে কমিউনিটি কোয়ারেন্টাইন জরুরি। একই সঙ্গে পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি ঘোষণা করে একটি কর্মকৌশলের আলোকে কাজ করতে হবে।

টিকাদান কার্যক্রমের কিছু অসঙ্গতির কথাও তুলে ধরেন ডা. মুশতাক হোসেন। তিনি বলেন, বিগত সময়ে এ ধরনের ক্যাম্পেইনের জন্য যেভাবে মাইক্রোপ্ল্যান করে প্রকৃত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হতো, এবার তা নিখুঁতভাবে করা হয়নি। যে কারণে সরকারি লক্ষ্যমাত্রার বাইরেও অনেক শিশু রয়ে গেছে, যারা আসলে টিকা পাওয়ার উপযুক্ত ছিল কিন্তু বাদ পড়েছে। এছাড়া আরেকটি বিষয় হলো, হাম এবার সম্পূর্ণ নতুন নতুন এলাকায় বিস্তৃত হয়েছে। নির্দিষ্ট কোনো ক্লাস্টারে সীমাবদ্ধ থাকলে এটি দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতো। এছাড়া টিকাদান কার্যক্রমটি ‘রিং ভ্যাকসিনেশন’ অর্থাৎ আক্রান্ত এলাকার চারপাশকে বিশেষ কর্ডন করে গুরুত্ব দিয়ে পরিচালিত না হওয়ায় প্রতিনিয়ত সংক্রমণ ছড়াচ্ছে।

আসন্ন কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে মানুষের ব্যাপক স্থানান্তরের কারণে হামে আক্রান্তের হার আরো বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করেন এই জনস্বাস্থ্যবিদ। তিনি বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে অনেকে গ্রামের বাড়ি যাতায়াত করবেন। এসময় সংক্রমণ ছড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। তাই অভিভাবকদের বলব, যেসব শিশু শারীরিকভাবে অপুষ্টিতে ভুগছে বা কিছুটা অসুস্থ, তাদের নিয়ে এই ঈদে ভ্রমণ না করাই উত্তম। এতে ওই শিশুর নিজের যেমন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হবে, তেমনি তার সংস্পর্শে আসা সুস্থ শিশুরাও ঝুঁকিতে পড়বে।

আরো ১১ শিশুর মৃত্যু; মোট প্রাণহানি ৪৭৫

গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারাদেশে হাম ও এই রোগের লক্ষণ নিয়ে আরো ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে হামের লক্ষণ নিয়ে ৯ ও নিশ্চিত হামে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ৯ শিশুর মধ্যে ঢাকা ও সিলেট বিভাগে ৩ জন করে, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগে ১ জন করে মারা গেছে। জেলা হিসেবে ঢাকা ও মৌলভীবাজারে সবচেয়ে বেশি ২ জন করে মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

গতকাল হামের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এমন তথ্যই জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, হাম এবং হামের লক্ষণ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সকাল ৮ টা পর্যন্ত সারাদেশে ৪৭৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৭৭ শিশুর। আর হামের লক্ষণ নিয়ে মারা গেছে ৩৯৮ শিশু।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ২৬৪ জন। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১১৫ জন এবং ছাড়পত্র পেয়েছে ১ হাজার ১১০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৭৩ জনের।

বিভাগভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ৫৪৪ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপর চট্টগ্রামে ২৩০ জন এবং বরিশালে ১৪৭ জন শনাক্ত হয়েছে। নিশ্চিত হাম শনাক্তের ক্ষেত্রেও শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ, যেখানে ৫৪ জনের শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে।

হাম রোগীর জন্য আলাদা ওয়ার্ড বাধ্যতামূলক 

হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও রোগীদের কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ৫ দফা বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারি সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে হাম ও সন্দেহজনক হাম রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড বা কেবিন চালু করতে হবে। আক্রান্ত রোগীদের ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়ারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিশ্চিত করতে হবে। ছুটির দিনসহ প্রতিদিন সকাল ও বিকালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের রাউন্ড দিতে হবে। রোগীর সঙ্গে একজনের বেশি অভিভাবক বা দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারবেন না বলেও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভর্তি রোগীদের তথ্য প্রতিদিন এমআইএস সার্ভারে আপলোড করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় মন্ত্রণালয় কী পদক্ষেপ নিয়েছে, জানাতে ৩০ দিন সময়

হামের প্রার্দুভাব মোকাবিলা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কী ধরণের পদক্ষেপ নিয়েছে সে বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন আগামী ৩০ দিনের মধ্যে দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। গতকাল এই-সংক্রান্ত রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এই আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। 

একই সঙ্গে দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ ও দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) এবং রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) প্রতিনিধি সমন্বয়ে ১০ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি কেন গঠন করা হবে না এবং হামের প্রাদুর্ভাবে মারা যাওয়া শিশুদের প্রত্যেকের পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না- তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও আইইডিসিআরের পরিচালককে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। 

এর আগে গত ১০ মে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব জনস্বার্থে এই রিট দায়ের করেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে যা বললেন শান্ত

পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে যা বললেন শান্ত

ঈদের পর ফুটপাতে বসলে হকারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

ডিএনসিসি ঈদের পর ফুটপাতে বসলে হকারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

সংক্রমণ আরো বাড়ার ঝুঁকি

হামের প্রকোপ সংক্রমণ আরো বাড়ার ঝুঁকি

দেশে হাম ও উপসর্গে মৃত্যু ৬, শনাক্ত ১৩৮

দেশে হাম ও উপসর্গে মৃত্যু ৬, শনাক্ত ১৩৮

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App