বৈশ্বিক অর্থনীতির মঞ্চে নতুন অবস্থানে ভারত
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:২০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বৈশ্বিক অর্থনীতির মঞ্চে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে ভারত। ২০২৫ সাল শেষ হওয়ার আগেই জাপানকে ছাড়িয়ে বিশ্বে চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে দেশটি। ভারতের সরকারের বছর শেষের অর্থনৈতিক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, আগামী তিন বছরের মধ্যে জার্মানিকেও পেছনে ফেলে তৃতীয় স্থানে ওঠার আশা করছেন নীতিনির্ধারকরা।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বেড়ে ৪ দশমিক ১৮ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জার্মানির পর বিশ্বে চতুর্থ বৃহত্তম। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সরকারি স্বীকৃতি নির্ভর করবে ২০২৬ সালে প্রকাশিত বার্ষিক জিডিপির চূড়ান্ত তথ্যের ওপর।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ২০২৬ সালের পূর্বাভাসে ভারতের অর্থনীতির আকার ধরা হয়েছে ৪ দশমিক ৫১ ট্রিলিয়ন ডলার, যেখানে জাপানের জন্য পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে ৪ দশমিক ৪৬ ট্রিলিয়ন ডলার।
আরো পড়ুন : ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারে খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণীয় : রাজনাথ
ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার সম্প্রতি প্রকাশিত ‘২০২৫: ভারতের প্রবৃদ্ধির জন্য নির্ধারক এক বছর’ শীর্ষক প্রতিবেদনে জানায়, বিশ্বের দ্রুততম প্রবৃদ্ধিশীল প্রধান অর্থনীতিগুলোর একটি হলো ভারত এবং এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার ক্ষেত্রে দেশটি ভালো অবস্থানে রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৪ দশমিক ১৮ ট্রিলিয়ন ডলারের জিডিপি নিয়ে ভারত জাপানকে ছাড়িয়ে চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সম্ভাব্য ৭ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের জিডিপি নিয়ে জার্মানিকে সরিয়ে তৃতীয় স্থানে পৌঁছানোর পথে রয়েছে।
এদিকে রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র নয়াদিল্লির ওপর বড় ধরনের শুল্ক আরোপ করে। এতে দেশটিতে অর্থনৈতিক উদ্বেগ তৈরি হলেও ভারত সরকার আশা করছে, অর্থনীতির আকার আরও বাড়বে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি প্রমাণ করে যে ভারত বৈশ্বিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তার মধ্যেও অর্থনৈতিক দৃঢ়তা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।
আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে ভারত বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়। সে সময় দেশটির জিডিপি সাবেক ঔপনিবেশিক শাসক ব্রিটেনকে ছাড়িয়ে যায়।
যেসব ক্ষেত্রে ভারতের আরো অগ্রগতি প্রয়োজন
জনসংখ্যার দিক থেকে ভারত ২০২৩ সালে চীনকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশে পরিণত হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনও বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি, দ্বিতীয় স্থানে চীন এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে জার্মানি।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি ছিল ২ হাজার ৬৯৪ ডলার, যা জাপানের তুলনায় প্রায় ১২ গুণ কম এবং জার্মানির তুলনায় প্রায় ২০ গুণ কম।
সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের মধ্যে এক-চতুর্থাংশের বেশি মানুষের বয়স ১০ থেকে ২৬ বছরের মধ্যে। ফলে বিপুলসংখ্যক তরুণ স্নাতকের জন্য মানসম্মত ও ভালো বেতনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই দেশটির বড় চ্যালেঞ্জ।
গত বছরের ডিসেম্বরের শুরুতে ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির মূল্য রেকর্ড সর্বনিম্নে নেমে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি না হওয়া এবং শুল্কসংক্রান্ত উদ্বেগ এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখে।
প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস
ভারত সরকার বলেছে, বিশ্বের অন্যতম নবীন দেশগুলোর একটি হিসেবে ভারতের প্রবৃদ্ধির গল্প নির্ভর করছে মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই উন্নয়নের ওপর।
বিশ্বব্যাংক ২০২৬ সালে ভারতের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। মুডিসের হিসাবে, ভারত ২০২৬ সালে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে জি-২০ দেশগুলোর মধ্যে দ্রুততম প্রবৃদ্ধিশীল অর্থনীতিতে পরিণত হবে।
আইএমএফ ২০২৫ সালের জন্য প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ২০২৬ সালের জন্য ৬ দশমিক ২ শতাংশ করেছে। ওইসিডি ২০২৫ সালে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ২০২৬ সালে ৬ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে।
এ ছাড়া এসঅ্যান্ডপি চলতি অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পরবর্তী অর্থবছরে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি আশা করছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ২০২৫ সালের পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৭ দশমিক ২ শতাংশ করেছে। শক্তিশালী ভোক্তা চাহিদার কারণে ফিচ ২০২৬ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৭ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত করেছে।
বিজেপি সরকারের মতে, ভারত বিশ্বের দ্রুততম প্রবৃদ্ধিশীল প্রধান অর্থনীতির দেশগুলোর একটি এবং এই গতি ধরে রাখার ক্ষেত্রে দেশটি ভালো অবস্থানে রয়েছে। স্বাধীনতার শতবর্ষ ২০৪৭ সালে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কাঠামোগত সংস্কার ও সামাজিক অগ্রগতির শক্ত ভিত্তির ওপর এগোচ্ছে ভারত।
সূত্র: এনডিটিভি
