×

ভারত

এবার টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালাল ভারত

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম

এবার টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালাল ভারত

ছবি: সংগৃহীত

সামরিক সক্ষমতা আরও জোরদার করার ধারাবাহিকতায় এবার মাঝারি-পাল্লার স্থল-আক্রমণকারী টমাহক সাবসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের (এলআরএলএসিএম) সফল পরীক্ষা চালিয়েছে ভারত।

সোমবার (১৫ জুন) রাতে দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য ওড়িশার চাঁদিপুরে অবস্থিত ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ (আইটিআর) থেকে মার্কিন টমাহক সাবসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের ভারতীয় সংস্করণের প্রথম সফল পরীক্ষা চালানো হয়।

সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, দেশটির প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) এই পরীক্ষাকে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছে।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এখনো আনুষ্ঠানিক নাম না পাওয়া এই ক্ষেপণাস্ত্রটি এক হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে। এটি ব্যর্থ ‘নির্ভয়’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পের উত্তরসূরি হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এতে পাল্লা, নেভিগেশন ও নির্ভুলতা বৃদ্ধিসহ একাধিক প্রযুক্তিগত উন্নয়ন যুক্ত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, স্থল, সমুদ্র ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার আগে আরও দুটি উন্নয়নমূলক এবং দুটি ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে।

ডিআরডিওর প্রকাশিত তথ্য সীমিত হলেও জানা গেছে, সাবসনিক গতির এই ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ০.৮ ম্যাক গতিতে উড়তে সক্ষম। ভূমির খুব কাছাকাছি দিয়ে উড়তে পারায় শত্রুপক্ষের রাডারের পক্ষে এটি শনাক্ত করা কঠিন। এছাড়া এতে প্রায় ৫০০ কেজি ওজনের ওয়ারহেড বহনের সক্ষমতা রয়েছে, যা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানতে কার্যকর বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দূরপাল্লার নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম অস্ত্রের গুরুত্ব সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে নতুন ক্ষেপণাস্ত্রটি ভারতের প্রচলিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে পারে।

উল্লেখ্য, পাকিস্তানের কাছে ২০১০ সাল থেকেই ‘বাবর’ নামে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার পাল্লার একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। অন্যদিকে চীনের অস্ত্রভান্ডারে বিভিন্ন ধরনের প্রচলিত ও পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পাকিস্তানের এই অস্ত্রটি আফগানিস্তানের খোস্তে আল-কায়েদা সন্ত্রাসী শিবিরে ১৯৯৮ সালে মার্কিন হামলায় উদ্ধার হওয়া একটি অবিস্ফোরিত টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র থেকে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে তৈরি করা হয়। বাবর ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরির জন্য পাকিস্তান চীনের কাছ থেকে পূর্ণ প্রযুক্তিগত সহায়তা পেয়েছে ও বিনিময়ে মার্কিন টমাহক প্রযুক্তি লাভ করেছে।

এর আগে, গত ২২ মে স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অগ্নি-১-এর সফল পরীক্ষা চালায় ভারত। ক্ষেপণাস্ত্রটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এ ছাড়া এই ক্ষেপণাস্ত্রের বিশেষ সুবিধা হলো ভ্রাম্যমাণ লঞ্চার থেকে উৎক্ষেপণ করা যায়। যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্রটি।

ক্ষেপণাস্ত্রটির ওজন ১০০০ কেজি হওয়ায় পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনেও সক্ষম। অগ্নি-১ ক্ষেপণাস্ত্রে রয়েছে অত্যাধুনিক নেভিগেশন সিস্টেম, যা নির্ভুল লক্ষ্যে আঘাত হানতে পারে বলে এক বিবৃতিতে জানায় ডিআরডিও।

তারও আগে ৯ মে বঙ্গোপসাগরে নিজেদের জলসীমায় পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায় ভারত। ওই দিন সন্ধ্যায় ওড়িশা উপকূলের আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটির পরীক্ষা চালানো হয়।

পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণটি দেখতে অগ্নি-৬ ক্ষেপণাস্ত্রের মতো না হলেও এটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) শ্রেণির। তবে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্রটির নাম ঘোষণা করেনি প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও)। তবে ডিআরওডি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কথা স্বীকার করেনি।


সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মিত হচ্ছে সামুদ্রিক গবেষণা জাহাজ

খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মিত হচ্ছে সামুদ্রিক গবেষণা জাহাজ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় জানালেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় জানালেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

বিশ্বকাপে মাইলফলকের সামনে মেসি

বিশ্বকাপে মাইলফলকের সামনে মেসি

ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ও সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন

ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ও সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App