৮০ লাখ টাকার হীরা পেলেন ঋণগ্রস্ত শ্রমিক
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৪, ০২:৩৪ পিএম
হীরা হাতে শ্রমিক রাজু গোন্ড। ছবি : সংগৃহীত
খনি থেকে একটা বড় আকারের হীরা খুঁজে পেয়ে রাতারাতি ভাগ্য বদলে ধনী হয়েছেন ভারতের মধ্যপ্রদেশের এক ঋণগ্রস্ত শ্রমিক। শ্রমিকের নাম রাজু গোন্ড, তিনি মধ্যপ্রদেশের পান্না জেলায় একটা খনি থেকে হীরাটি খুঁজে পান। হীরা সরকারি নিলামে তোলা হবে। জানা গেছে, আনুমানিক ৮০ লাখ টাকায় নিলাম হতে পারে ১৯.২২ ক্যারেটের এই হীরা। খবর বিবিসির।
রাজু গোন্ড নামে এই যুবক জানিয়েছেন, পান্নার খনিতে বহু বছর ধরেই হীরা খোঁজার কাজ করছেন তিনি। গত দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেখানকার হীরার খনি লিজ বা ইজারায় নিচ্ছেন। এমন মূল্যবান হীরা খুঁজে পাওয়ার অভিজ্ঞতা কিন্তু তার আগে হয়নি।
হীরার জন্য বিখ্যাত ভারতের মধ্যপ্রদেশের পান্না জেলা। এখানে অনেকেই ভারত সরকারের কাছ থেকে খনি লিজ নিয়ে হীরা খোঁজার চেষ্টা চালান। কেউ এদের মতো মূল্যবান হীরা খুঁজে পান, কারো ভাগ্যে জোটে ছোটখাটো আকারের হীরা আর কেউ বা সফল হতে পারেন না।
'ন্যাশনাল মিনারল ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশন' বা জাতীয় খনিজ উন্নয়ন কর্পোরেশনের মাধ্যমে পান্নায় 'মেকানাইসড ডায়মন্ড মাইনিং' বা যন্ত্র চালিত হীরা খনি প্রকল্প পরিচালনা করে কেন্দ্র সরকার।
আরো পড়ুন : বাংলাদেশ ইস্যু নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে পাল্টা জবাব মমতার
ব্যক্তি, পরিবার এবং সমবায় গোষ্ঠীকে হীরা খনি ইজারা দিয়ে থাকে 'ন্যাশনাল মিনারল ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশন’। অগভীর এই খনিতে অনেকেই আসেন হীরে খুঁজতে। যারা এই খনি লিজে নেন, তারা মূলত ছোট-খাটো যন্ত্রপাতির সাহায্যে হীরা খোঁজার চেষ্টা করেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে বুন্দেলখণ্ডের এক শ্রমিক এই পান্না জেলার খনি থেকেই দেড় কোটি টাকা মূল্যের একটা হীরা খুঁজে পেয়েছিলেন। তবে এতো দামি হীরা খুঁজে পাওয়ার ঘটনা সচরাচর ঘটে না।
বুধবার সকালেও হীরার খনিতে কাজে গিয়েছিলেন রাজু গোন্ড, যেমনটা ঠিক অন্যান্য দিনগুলোতেও করে থাকেন। তবে এইদিনই যে তার ভাগ্যের চাকা ঘুরতে চলেছে সে বিষয়ে কল্পনাও করেননি তিনি। মধ্যপ্রদেশের এই যুবক বলেছেন, এই কাজটা কিন্তু বেশ পরিশ্রমের কাজ। আমরা গর্ত খুঁড়ি, মাটি ও পাথর বের করি। সেগুলোকে চালনিতে রেখে ধুয়ে নিই। তারপর খুব সাবধানে ছোট ছোট পাথরের মধ্য থেকে হীরা খোঁজার চেষ্টা করতে থাকি।
বুধবার বিকেলে তার কঠোর পরিশ্রমের ফল পেয়েছেন তিনি। সেইদিনের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন, সেদিন আমি সব পাথরগুলো ধুচ্ছিলাম। ঠিক সেই সময় একটা কাচের টুকরোর মতো কিছু একটা আমার চোখে পড়ে। সেটা তুলে আমি আমার চোখের সামনে ধরলাম। একটা আলতো আলোর মতো কিছু দেখতে পেলাম। পরে বুঝতে পারলাম আমি হীরা খুঁজে পেয়েছি।
বুধবার বিকেলে ওই হীরা খুঁজে পাওয়ার পর সেটা নিয়ে সরকারি অফিসে যান রাজু। সেখানে হীরার ওজন মেপে মূল্য স্থির করা হয়।
সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তা অনুপম সিং জানিয়েছেন, আগামী সরকারি নিলামে ওই হীরা তোলা হবে। সরকারি রয়্যালটি ও হীরার উপর বসানো কর কেটে নেয়ার পর বাকি টাকা দেয়া হবে রাজু গোন্ডকে। আনুমানিক ৮০ লাখ টাকায় বিক্রি হতে পারে এই হীরা।
এই অর্থ দিয়ে কী করতে চান তিনি তা জিজ্ঞাসা করা হলে মধ্যপ্রদেশের এই বাসিন্দা জানিয়েছেন, হীরা বিক্রি করে পাওয়া টাকা দিয়ে মাথা গোঁজার জন্য একটা পাকাপোক্ত ব্যবস্থা করতে চান তিনি।
