নারীদের জন্য পরিবারই সবচেয়ে প্রাণঘাতী
গত বছর গড়ে প্রতিদিন ১৪০ নারী সঙ্গী বা আত্মীয় দ্বারা খুন : জাতিসংঘ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৪, ০৯:১৭ পিএম
ছবি : ইন্টারনেট
জাতিসংঘের দুটি সংস্থার প্রকাশিত প্রতিবেদনে ২০২৩ সালে নারীদের জন্য বাসা-বাড়ি সবচেয়ে প্রাণঘাতী স্থান হিসেবে উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিদিন গড়ে ১৪০ জন নারী ও কিশোরী তাদের নিকটাত্মীয় বা পরিবারের সদস্যদের হাতে প্রাণ হারিয়েছে।
ইউএস উইমেন এবং জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ দপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৫১ হাজার ১০০ নারী ও কিশোরী তাদের সঙ্গী বা পরিবারের সদস্যদের হাতে হত্যার শিকার হয়েছে। ২০২২ সালে এই সংখ্যাটি ছিল প্রায় ৪৮ হাজার ৮০০ জন।
এ প্রতিবেদনটি আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন বিরোধী দিবসে প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হত্যার সংখ্যা বেড়েছে, তবে এটি কোনো নতুন প্রবণতা নয়। বরং, তথ্য সংগ্রহের উন্নতির কারণে এই সংখ্যায় বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।
জাতিসংঘ এবং ইউএস উইমেন উভয় সংস্থাই উল্লেখ করেছে যে, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা পৃথিবীর প্রতিটি অঞ্চলে নারীদের এবং কিশোরীদের প্রভাবিত করছে। এবং কোনো অঞ্চলই এর থেকে মুক্ত নয়। প্রতিবেদনে আবারও স্পষ্ট করা হয়েছে, "বাড়ি নারী ও মেয়েদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক স্থান।"
২০২৩ সালে সঙ্গী এবং পারিবারিক সহিংসতার কারণে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে আফ্রিকায়, যেখানে আনুমানিক ২১ হাজার ৭০০ জন নারী ও কিশোরী হত্যা হয়েছে। আফ্রিকায় এই ধরনের মৃত্যুর হারও সবচেয়ে বেশি ছিল, প্রতি এক লাখে ২.৯ জন।
আমেরিকা ও ওশেনিয়ায়ও হত্যার ঘটনা তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। আমেরিকায় প্রতি এক লাখে ১.৬ জন এবং ওশেনিয়ায় প্রতি এক লাখে ১.৫ জন নারী হত্যার শিকার হয়েছে। এর বিপরীতে, এশিয়া ও ইউরোপে মৃত্যুর হার অনেক কম ছিল, যথাক্রমে ০.৮ এবং ০.৬ জন প্রতি এক লাখে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউরোপ ও আমেরিকায় অধিকাংশ নারী তাদের সঙ্গী দ্বারা হত্যার শিকার হলেও, আফ্রিকা, এশিয়া এবং অন্যান্য অঞ্চলে পুরুষ এবং কিশোররা বেশি হত্যার শিকার হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট হত্যার শিকার মানুষের মধ্যে পুরুষদের তুলনায় নারীরা বেশি মারা গেছেন। ২০২৩ সালে নারী ও মেয়েরা মোট হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৬০ শতাংশের শিকার হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই ধরনের হত্যাকাণ্ডগুলোর মূল কারণ হচ্ছে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, যা সঠিক সময়ে এবং কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
বিশ্বজুড়ে এই ধরনের হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা বাড়ছে এবং তা প্রতিরোধ করতে প্রয়োজন সঠিক হস্তক্ষেপ এবং সচেতনতা বৃদ্ধি।
