৪,০০০ কিলোমিটার দূরত্বের ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, বিস্মিত যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ মার্চ ২০২৬, ০৭:২৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ভারত মহাসাগরের চাগোস দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত মার্কিন-ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ‘দিয়েগো গার্সিয়া’য় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চলমান সংঘাতকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে।
শনিবার (২১ মার্চ) প্রায় ৪,০০০ কিলোমিটার দূরত্বের ওই নিশানায় ইরান দুটো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। যদিও এর কোনোটিই লক্ষ্যে পৌঁছায়নি, কিন্তু দীর্ঘ এই দূরত্ব পাড়ি দেবার মতো ক্ষেপনাস্ত্র ইরানের কাছে থাকাটিই মার্কিন কর্মকর্তাদের চরম মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানায় যে, ইরান ব্রিটিশ ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলটিতে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যার একটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে ব্যর্থ হয় এবং অন্যটি একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ দ্বারা প্রতিহত হয়।
তবে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ঠিক কখন ছোড়া হয়েছিল তা স্পষ্ট নয়।
সিএনএন আরও জানায়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে ইরানি স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে যুক্তরাজ্য সম্মত হওয়ার আগেই এই মিসাইল হামলার চেষ্টাটি ঘটেছিল।
আরো পড়ুন: ইরানের বৃহত্তম ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে আবারো হামলা
বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা ইরানের সামরিক সক্ষমতার দূরপাল্লার দিকটি স্পষ্ট করেছে এবং যুদ্ধের ভৌগোলিক বিস্তারকে সামনে এনেছে।
ব্রাসেলসভিত্তিক সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক এলিজা ম্যাগনিয়ের বলেছেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রতিক্রিয়া ক্রমেই গভীরতর হচ্ছে। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, যুদ্ধক্ষেত্র ভৌগোলিকভাবে বিস্তৃত হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠবে। কারণ নতুন নতুন অঞ্চল ও স্থাপনাগুলো ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
ম্যাগনিয়ের আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে হবে। কারণ ইরান প্রচলিত যুদ্ধে জয়লাভের চেষ্টা করছে না; বরং যুদ্ধের ‘খরচের সমীকরণ’ পরিবর্তনের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।
তার ভাষায়, দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে হামলার হুমকি দিয়ে ইরান স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ঝুঁকি ক্রমেই বাড়বে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, এই ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও বিস্তৃত আকার দিতে পারে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে।
