হরমুজকে মাইন মুক্ত করতে রোবট পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চরম উত্তেজনার কেন্দ্রে থাকা হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিক করতে এবার নতুন কৌশল নিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ইরানের অবরোধ ও মাইন আতঙ্ক কাটিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করতে মনুষ্যবিহীন সামুদ্রিক ড্রোন ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
শনিবার ইরান পুনরায় হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় এবং মার্কিন অবরোধের প্রতিবাদে দুটি বেসামরিক জাহাজে গুলি চালানোর ঘটনায় আন্তর্জাতিক নৌ-পথে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। ইরান বর্তমানে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে তাদের উপকূলবর্তী বিকল্প ও ধীরগতির রুট ব্যবহারে বাধ্য করছে এবং প্রধান জলপথে মাইন থাকার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে।
জাহাজ চলাচলের প্রধান বাধা এখন এই মাইন আতঙ্ক। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের উপকূলীয় রুটগুলো যানজটপূর্ণ হওয়ায় মূল জলপথ সচল করা অপরিহার্য। মার্কিন নৌবাহিনী এখন পুরনো মাইন-অপসারণকারী জাহাজের বদলে উন্নত সামুদ্রিক ড্রোন ও সাবমেরিন ব্যবহার করছে। র্যান্ড কর্পোরেশনের জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী স্কট স্যাভিটজ জানান, মাইনফিল্ডে এই রোবটগুলো পাঠানো অনেক বেশি যুক্তিসঙ্গত, কারণ এতে নাবিকদের জীবনের ঝুঁকি থাকে না এবং ড্রোন হারিয়ে গেলেও তা দ্রুত প্রতিস্থাপন করা সম্ভব।
প্রযুক্তিগতভাবে, ‘আরটিএক্স’-এর তৈরি ড্রোন এবং ‘জেনারেল ডাইনামিকস’-এর এমকে১৮ মড ২ কিংফিশের মতো ড্রোনগুলো সমুদ্রের তলদেশে কয়েকশ ফুট এলাকায় মাইন শনাক্ত করতে সক্ষম। যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সাবেক কমান্ডার কেভিন ডনিগান বলেন, এই ডুবো ড্রোন ব্যবহার করে কয়েক সপ্তাহের কাজ মাত্র কয়েক দিনেই শেষ করা সম্ভব। একবার একটি ছোট চ্যানেল মাইনমুক্ত করা গেলে ধীরে ধীরে বড় জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে।
এদিকে, শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইরান সব মাইন সরিয়ে ফেলেছে, তবে শনিবার ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) জলপথটি পুনরায় বন্ধ ঘোষণা করায় সেই দাবি নাকচ হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থা বিমকো-এর নিরাপত্তা কর্মকর্তা জ্যাকব লারসেনও জানিয়েছেন, মাইন থাকার ঝুঁকি এখনো বিদ্যমান এবং শিপিং কোম্পানিগুলোর এই এলাকা এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।
লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের তথ্যমতে, গত ১৩ এপ্রিলের পর থেকে প্রণালি পার হওয়া অধিকাংশ জাহাজই ইরানের বাধ্যতামূলক রুট ব্যবহার করছে। হডসন ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো ব্রায়ান ক্লার্ক মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ড্রোন দিয়ে মাইন শনাক্ত করে নিজের জাহাজ চলাচল শুরু করতে পারে, তবে ইরান আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য হতে পারে।
