ইসরায়েলের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চুক্তি বাতিলের আহ্বান স্পেনের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। ফাইল ছবি
ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অ্যাসোসিয়েশন অ্যাগ্রিমেন্ট নামের চুক্তি বাতিলের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। ২০০০ সাল থেকে কার্যকর এই চুক্তির আওতায় জোটটি এবং ইসরায়েলের মধ্যে বাণিজ্য ও সহযোগিতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে সানচেজ বলেন, ‘ইসরায়েলের জনগণের বিরুদ্ধে আমাদের কিছুই নেই; বরং উল্টোটা। তবে এমন একটি সরকার, যারা আন্তর্জাতিক আইন এবং সেই সঙ্গে ইইউর নীতি ও মূল্যবোধ লঙ্ঘন করে, তারা আমাদের অংশীদার হতে পারে না।’ খবর এপির।
সানচেজ জানিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবার ইইউ’র পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ইসরায়েলের সঙ্গে এই চুক্তি বাতিলের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব তুলে ধরবে স্পেন।
ইরান আক্রমণের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচক হলেন পেদ্রো সানচেজ। তার এই অবস্থানের কারণে তিনি ট্রাম্পের কাছ থেকেও তীব্র সমালোচনার শিকার হয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে স্পেন এবং আয়ারল্যান্ড প্রথমবার ইসরায়েলের সঙ্গে করা এই চুক্তিটি পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছিল। ইইউ-ইসরায়েল চুক্তির আওতায় একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল এবং অন্যান্য সুবিধা বিদ্যমান থাকলেও এতে মানবাধিকার রক্ষার একটি বাধ্যতামূলক শর্ত রয়েছে।
২০২৫ সালের মে মাসে ইইউ এই চুক্তিটি পর্যালোচনায় সম্মত হয় এবং এর এক মাস পর ইউরোপীয় কমিশন জানায় যে ইসরায়েল মানবাধিকার বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করতে পারে এমন ‘লক্ষণ’ পাওয়া গেছে। তবে তখন কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়নি। সম্প্রতি মাদ্রিদ আবারও আয়ারল্যান্ড এবং স্লোভেনিয়ার সঙ্গে মিলে এই চুক্তি বাতিলের আলোচনাটি নতুন করে শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
স্পেনের এই কঠোর অবস্থান ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরে ইসরায়েল ইস্যুতে নতুন করে মেরুকরণ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সানচেজের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ফলে ইউরোপের অর্থনীতি ও জননিরাপত্তায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
সানচেজ বিশ্বাস করেন, কেবল অর্থনৈতিক অবরোধ বা কূটনৈতিক চাপই পারে ইসরায়েলি সরকারকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে বাধ্য করতে। লুক্সেমবার্গের বৈঠকে স্পেনের এই প্রস্তাব কতটা গ্রহণযোগ্যতা পায়, তার ওপরই নির্ভর করছে ইইউ-ইসরায়েল সম্পর্কের ভবিষ্যৎ।
