সুবর্ণচরে যুবদল নেতার নেতৃত্বে বাড়িঘর-জমি দখল, হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ
নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে দিদারুল আলম ও তার ভাই কালার নেতৃত্বে অসহায় ভূমিহীন পরিবারের বাড়িঘর, জায়গা-জমি দখল, হামলা, ভাঙচুর ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চর মাকসুমুল গ্রামে শত শত এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী জামাল উদ্দিন মেম্বার, ইসমাইল মেম্বার ও আলা উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম এবং তার ভাই জসিম উদ্দিন কালার নেতৃত্বে নাহিদ, নাজু, হৃদয়, সোহাগ ও আরিফসহ একদল সন্ত্রাসী দীর্ঘদিন ধরে ভূমিহীনদের জায়গা-জমি ও বাড়িঘর দখল, মারধরসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।
তারা আরো জানান, গত ৫ আগস্টের পর থেকে দিদারুল আলম ও তার বাহিনী আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না এবং তিনি নিজেকে এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন।
ভুক্তভোগী আলা উদ্দিন বলেন, সম্প্রতি দিদারুল আলম তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় গত ২৩ জুলাই দিবাগত রাতে তাদের ইজারাকৃত একটি প্রজেক্টে হামলা চালিয়ে চারটি ঘর ভাঙচুর করা হয় এবং একটি ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রজেক্ট থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যাওয়া হয় এবং প্রায় ৩ লাখ টাকা মূল্যের একটি ১০ কেভি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার খুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা ইয়াবা ব্যবসা, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সালিশ-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত। এসব কর্মকাণ্ডের মূল হোতা দিদারুল আলম ও তার ভাই জসিম উদ্দিন কালা মিয়া।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। তবে এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা। দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন ভুক্তভোগীরা।
মানববন্ধনে বক্তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান, অভিযুক্ত দিদারুল আলমকে দল থেকে বহিষ্কার করে তার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত যুবদল নেতা দিদারুল আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে তার বক্তব্য জানা যায়নি।
সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব নুরুল হুদা বলেন, দিদারুল আলমের বিরুদ্ধে এর আগে এ ধরনের কোনো অভিযোগ কেউ করেনি। আজ মানববন্ধনে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা খোঁজখবর নিয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
