হরমুজে টোল ইস্যুতে পণ্য সরবরাহকারীদের হুমকি ট্রাম্পের
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬, ১১:০৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী পণ্যবাহী জাহাজগুলো যদি ইরানকে কোনো প্রকার টোল বা মাশুল প্রদান করে, তবে সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে ইরানের প্রভাব কমাতে এবং তাদের আয়ের উৎস বন্ধ করতে ওয়াশিংটন এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যারা ইরানকে আর্থিক সুবিধা দেবে তারা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়বে।
শুক্রবার (১ মে) এ ব্যাপারে একটি বিবৃতি দিয়েছে দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘টোলের আড়ালে ইরানের রেডক্রিসেন্ট সোসাইটিকেও কোনো ধরনের অর্থ দেওয়া যাবে না। যারা অর্থ দেবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হলো হরমুজ প্রণালী। আন্তর্জাতিক বাজারে মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশই এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইরাকের মতো উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের জ্বালানি তেল ও গ্যাস রপ্তানির জন্য মূলত এই রুটের ওপরই নির্ভরশীল।
তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। এর প্রতিবাদে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী এই কৌশলগত জলপথটি বন্ধ করে দেয়। ফলে দীর্ঘদিনের নিরবচ্ছিন্ন জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়।
পরবর্তীতে ইরান ঘোষণা দেয়, এখন থেকে হরমুজ প্রণালী ব্যবহারকারী প্রতিটি জাহাজকে নির্দিষ্ট হারে 'টোল' বা মাশুল প্রদান করতে হবে। পশ্চিমা দেশ ও আরব রাষ্ট্রগুলো এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করলেও ইরান তার অবস্থানে অনড়। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার ক্ষেত্রে এই টোল আদায়ের অধিকারটি অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে গণ্য হবে।
সূত্র: রয়টার্স
