পশ্চিমবঙ্গে কে হচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ০৯:২০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বড় সাফল্যের পর এখন সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন- কে হচ্ছেন রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে ‘অজেয় দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত এই রাজ্যে দলের উত্থানকে অনেকেই ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে দেখছেন।
দলীয় সূত্র ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যে সংগঠন আরও শক্তিশালী করতে বিজেপি অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী নেতৃত্ব বেছে নিতে পারে। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো একজন নারীকে মুখ্যমন্ত্রী করা হতে পারে- এমন আলোচনাও চলছে।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় এলে একজন বাঙালিকেই মুখ্যমন্ত্রী করা হবে। অন্যদিকে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা সুকান্ত মজুমদারও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, রাজ্যের নেতৃত্ব স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
বিজেপির কৌশল অনুযায়ী, তারা সাধারণত নির্বাচনের আগে নির্দিষ্ট মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী ঘোষণা করে না। এ ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তাকেই মূল ভরসা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণায় রাজ্যজুড়ে একাধিক জনসভা করে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
সম্ভাব্য প্রার্থীরা
শুভেন্দু অধিকারী
তৃণমূল কংগ্রেস থেকে আসা এই নেতা বর্তমানে বিজেপির অন্যতম শক্তিশালী মুখ। সংগঠনে তার প্রভাব ও তৃণমূল স্তরে শক্ত যোগাযোগ তাকে এগিয়ে রেখেছে। নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে তিনি আলোচনায় আসেন।
শমীক ভট্টাচার্য
বর্তমান রাজ্য সভাপতি হিসেবে সংগঠনের ভেতরে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। আড়ালে থেকে কাজ করলেও বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে দলের প্রভাব বাড়াতে তিনি ভূমিকা রেখেছেন।
অগ্নিমিত্র পাল
বিজেপির শীর্ষ নারী নেত্রীদের একজন। লড়াকু রাজনৈতিক অবস্থান ও সক্রিয় প্রচারণার কারণে তিনি আলোচনায় আছেন। নারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনার আলোচনায় তার নামও উঠে আসছে।
রূপা গাঙ্গুলী
জনপ্রিয় অভিনেত্রী থেকে রাজনীতিতে আসা এই নেত্রীর শহর ও গ্রাম-দুই পর্যায়েই গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। দলীয় রাজনীতিতে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।
দিলীপ ঘোষ
সাবেক রাজ্য সভাপতি হিসেবে সংগঠন গড়ে তোলায় তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তিনি সবসময় আলোচনায় থাকেন এবং চমক হিসেবে সামনে আসতে পারেন।
কী হতে পারে সিদ্ধান্ত
বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপি পরিচিত ও অভিজ্ঞ কোনো নেতার ওপর ভরসা করতে পারে, আবার নারী নেতৃত্বকে সামনে এনে নতুন বার্তাও দিতে পারে। শেষ পর্যন্ত দল কাকে বেছে নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, এনডিটিভি।
