×

আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর বিরোধ প্রকাশ্যে

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ০৮:৪৫ পিএম

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর বিরোধ প্রকাশ্যে

ছবি- সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধ কীভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে মঙ্গলবার উত্তেজনাপূর্ণ ফোনালাপ হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে সিএনএনকে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।

এর আগে রোববার দুই নেতা কথা বলার সময় ট্রাম্প জানান, সপ্তাহের শুরুতেই তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালানোর পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে পারেন।

তবে সেই কথোপকথনের প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় মিত্রদের অনুরোধে মঙ্গলবারের জন্য পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করা হচ্ছে। এরপর থেকে উপসাগরীয় দেশগুলো হোয়াইট হাউজ ও পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে কূটনৈতিক আলোচনার একটি কাঠামো তৈরির চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন ওই মার্কিন কর্মকর্তা ও পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত আরেক ব্যক্তি।

বুধবার সকালে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আমরা ইরান ইস্যুর একেবারে শেষ পর্যায়ে আছি। কী হয়, দেখা যাক। তিনি আরও বলেন, হয় আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাবো, নয়তো কিছুটা কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে আশা করি, সেটি করতে হবে না।

চলমান আলোচনা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে হতাশ করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তা ও ইসরায়েলি সূত্রগুলোর মতে, নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরেই তেহরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থানের পক্ষে ছিলেন। তার মতে, দেরি হলে লাভবান হবে কেবল ইরানই।

মঙ্গলবার ট্রাম্পকে নিজের হতাশার কথা জানান নেতানিয়াহু। ওই মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, তিনি ট্রাম্পকে জানান যে, পরিকল্পিত হামলা পিছিয়ে দেওয়া ভুল সিদ্ধান্ত এবং প্রেসিডেন্টের উচিত আগের পরিকল্পনামতো এগিয়ে যাওয়া। প্রায় এক ঘণ্টার ওই ফোনালাপে নেতানিয়াহু সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর পক্ষে জোর দেন বলে জানিয়েছেন আলোচনার সঙ্গে পরিচিত এক ইসরায়েলি সূত্র। এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, দুই পক্ষের অবস্থানের পার্থক্য স্পষ্ট ছিল। ট্রাম্প দেখতে চান চুক্তি সম্ভব কি না, কিন্তু নেতানিয়াহু ভিন্ন কিছু প্রত্যাশা করছিলেন।

মঙ্গলবারের ফোনালাপের পর নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে সিএনএনকে জানিয়েছেন আরেক ইসরায়েলি সূত্র। তার ভাষায়, ইসরায়েলি সরকারের উচ্চপর্যায়ে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর প্রবল আগ্রহ রয়েছে এবং ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ‘কূটনৈতিক সময়ক্ষেপণ’ চলতে দেওয়ায় সেখানে হতাশা বাড়ছে।

তবে ট্রাম্পের কৌশল নিয়ে নেতানিয়াহুর অসন্তোষ নতুন নয়। আলোচনার সঙ্গে পরিচিত সূত্রগুলোর মতে, ট্রাম্পের বারবার হুমকি দিয়ে পরে আবার পিছু হটার প্রবণতা নিয়েও তিনি আগে থেকেই বিরক্ত। মার্কিন কর্মকর্তারাও অতীতে স্বীকার করেছেন, যুদ্ধ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্য সবসময় এক নয়।

মঙ্গলবার রাতে নেতানিয়াহুকে কী বলেছেন— এমন প্রশ্নের জবাবে বুধবার ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, নিয়ন্ত্রণ তার হাতেই রয়েছে। তিনি বলেন, আমি যা চাইবো, সে তাই করবে।

নেতানিয়াহুর সামরিক পদক্ষেপে ফেরার চাপ সত্ত্বেও ট্রাম্প আপাতত কূটনৈতিক সমাধানের পথেই এগোতে চান। বুধবার তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে পরিস্থিতি এখন একেবারে সীমারেখায় রয়েছে এবং কয়েকদিন সময় দিলে যদি প্রাণহানি এড়ানো যায়, তাহলে কূটনীতিকে আরও সুযোগ দেওয়া উচিত।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বুধবার জানিয়েছেন, পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে। রাষ্ট্রীয় ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম নূর নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।

মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইরানের প্রাথমিক ১৪ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে কয়েক দফা বার্তা বিনিময় হয়েছে। আমরা মার্কিন পক্ষের মতামত পেয়েছি এবং বর্তমানে তা পর্যালোচনা করছি।

ইরানের আইএসএনএ সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির বৃহস্পতিবার তেহরান সফরে যাচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধান খুঁজতে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এর অংশ হিসেবে এপ্রিলে পাকিস্তানে মুখোমুখি বৈঠক করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানি পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

তবে দুই পক্ষের মধ্যে মূল মতপার্থক্যের কতটা কমেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। একটি আঞ্চলিক সূত্র জানায়, ইরান এখনো তাদের মূল দাবিগুলো থেকে সরে আসেনি। পারমাণবিক কর্মসূচি ও জব্দকৃত সম্পদ নিয়ে জটিলতাও সপ্তাহের শুরু পর্যন্ত অমীমাংসিত ছিল।

এদিকে ট্রাম্প বারবারই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সামরিক পদক্ষেপ এখনো একটি বিকল্প হিসেবে রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা যদি সঠিক উত্তর না পাই, তাহলে খুব দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমরা সবাই প্রস্তুত আছি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

‘মহাসড়কে চাঁদাবাজি’, ববি ছাত্রদলের দুই নেতা বহিষ্কার

‘মহাসড়কে চাঁদাবাজি’, ববি ছাত্রদলের দুই নেতা বহিষ্কার

রামিসার বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

রামিসার বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

মুম্বাইয়ের যে 'ভুল পদক্ষেপ' একটি ঐতিহ্যকে ধ্বংস করল

মুম্বাইয়ের যে 'ভুল পদক্ষেপ' একটি ঐতিহ্যকে ধ্বংস করল

৪৮ দলের বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আলোচনায় ৬৬ দলের আসর

৪৮ দলের বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আলোচনায় ৬৬ দলের আসর

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App