ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পদযাত্রা ঘিরে উত্তাল পাকিস্তান
অবরুদ্ধ ইসলামাবাদ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৪ পিএম
ফাইল ছবি।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিয়েছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। দলটির নেতারা ইসলামাবাদ অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা দেওয়ায় রাজধানীতে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যার ফলে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে রাজধানী ইসলামাবাদ।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পিটিআই নেতারা আগামী রোববার থেকেই পদযাত্রা শুরু করবেন নাকি কর্মসূচি আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত পেছাবেন, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা করেন। দলের একটি অংশ রোববার থেকেই ধীরে ধীরে ইসলামাবাদের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিলেও অনেকেই কর্মসূচি কিছুটা পেছানোর কথা বলেছেন।
কারাগারে কেমন আছেন ইমরান খান?
২০২৩ সালে দুর্নীতির মামলায় কারাদণ্ড পাওয়ার পর থেকেই কারাগারে বন্দি রয়েছেন ইমরান খান। কারাগারে তার সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে—এমন উদ্বেগের মধ্য দিয়ে মুক্তির দাবিতে নতুন এ কর্মসূচি ঘোষণা করল পিটিআই।
পিটিআইয়ের শক্ত ঘাঁটি খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি জানান, কারাগারের পরিস্থিতির উন্নতি এবং মামলাগুলোতে ন্যায্য শুনানির সুযোগ নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন দাবিতে সরকার উল্লেখযোগ্য ছাড় না দিলে তারা পদযাত্রা চালিয়ে যাবেন। একই সঙ্গে, বিক্ষোভ ঠেকাতে সরকার ইসলামাবাদ অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং পিটিআই নেতাদের নির্বিচারে আটক করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংঘর্ষের আশঙ্কা ও কঠোর নিরাপত্তা
পিটিআইয়ের এই কর্মসূচি ঘিরে সহিংস সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর আগের বিক্ষোভগুলোতেও ইমরান খানের সমর্থকদের সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছিল। এবারও বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করায় পরিস্থিতি যেকোনো সময় আরও উত্তপ্ত হতে পারে।
পদযাত্রা রুখতে খাইবার পাখতুনখাওয়াতেও হাজার হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রাদেশিক রাজধানী পেশোয়ারের সঙ্গে ইসলামাবাদের সংযোগকারী প্রধান মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইসলামাবাদে সব ধরনের জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
রাজধানীজুড়ে ২২ হাজার পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। রাস্তাঘাট আটকে দিতে বসানো হয়েছে এক হাজারের বেশি কনটেইনার; যার কিছু কিছু কনটেইনারে নিরাপত্তার নামে ধারালো স্পাইক বা পেরেক লাগানো হয়েছে। বিভিন্ন সেতুতে বালুর বস্তা রাখা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
নেতাকর্মীদের গণগ্রেপ্তার
পদযাত্রা ঠেকাতে পিটিআইয়ের ডজন ডজন নেতা ও সাবেক মন্ত্রীকে এরই মধ্যে আটক করা হয়েছে। এমনকি গত সোমবার ইমরান খানের তিন বোনকেও গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদির বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
পিটিআইয়ের দাবি, ইমরান খানকে সম্পূর্ণ একা বা নিঃসঙ্গ করে রাখা হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে তার চিকিৎসা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও মারাত্মকভাবে সীমিত করা হয়েছে। তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইমরান খান। বর্তমান সরকার ও দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনীর জন্য রাজনৈতিক হুমকি হয়ে ওঠায় তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পিটিআইয়ের এই বিক্ষোভ বড় আকার ধারণ করলে তা বর্তমান সরকার ও সামরিক বাহিনীর জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। দেশের অর্থনীতি, অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সরকারের নানা কার্যক্রম নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে অসন্তোষ রয়েছে, তাতে পরিস্থিতি যেকোনো সময় দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
