×

আন্তর্জাতিক

‘শর্ত না মানলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়’

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১০ পিএম

‘শর্ত না মানলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়’

ফাইল ছবি

ইরানের দেওয়া সাতটি শর্ত মেনে না নিলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে চলমান আলোচনায় কোনো অগ্রগতি সম্ভব নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ প্রয়োগ কিংবা প্রলোভন দেখানোর কৌশলে ইরান নতি স্বীকার করবে না। আলোচনায় অগ্রগতির জন্য তেহরানের শর্তগুলো মেনে নেওয়াই একমাত্র পথ।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, ইরানের শর্তগুলো মধ্যস্থতাকারীদের কাছে বারবার এবং স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ফলে এসব শর্ত উপেক্ষা করে আলোচনায় কোনো ধরনের অগ্রগতি আশা করা যায় না। 

ইরানের এই অবস্থান এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান এবং যুদ্ধবিরতির পথ খুঁজতে বিভিন্ন দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার মূল বিষয়গুলো নিয়ে এখনো মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও যুদ্ধ বন্ধে জোর তেহরানের

ইরানের পক্ষ থেকে উত্থাপিত শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া, জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত করা এবং আঞ্চলিক সব ফ্রন্টে শত্রুতা বন্ধ করা। এ ছাড়া ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টিও তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ দাবি হিসেবে উঠে এসেছে। 

তেহরানের বক্তব্য, এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা এগিয়ে নেওয়া কঠিন। ইরান মনে করে, কেবল আলোচনার প্রস্তাব কিংবা ভবিষ্যতে ছাড় দেওয়ার আশ্বাস যথেষ্ট নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রকে আগে থেকেই বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে নিজেদের সদিচ্ছার প্রমাণ দিতে হবে।

অন্যদিকে, ওয়াশিংটন আলোচনার শুরুতেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার চাইছে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সীমিত করা এবং দেশটির উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিষয়ে কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে দুই পক্ষের আলোচনায় কোন বিষয়টি আগে গুরুত্ব পাবে, তা নিয়ে বড় ধরনের মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। 

নতুন করে আলোচনার উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের

এদিকে, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর অংশ হিসেবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাইকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

চিঠির উদ্দেশ্য নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য পাওয়া গেছে। কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা পুনরায় শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে চিকিৎসাসামগ্রী ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছানোর বিষয়টি ছিল ওই যোগাযোগের মূল উদ্দেশ্য। এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তখনো আনুষ্ঠানিক জবাব আসেনি বলে রয়টার্স জানিয়েছে। 

এ পরিস্থিতিতে গালিবাফের বক্তব্যকে ওয়াশিংটনের প্রতি তেহরানের কঠোর অবস্থানের পুনর্ব্যক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরান স্পষ্ট করতে চাইছে, তাদের শর্তগুলো বিবেচনায় না নিয়ে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের ভিত্তিতে আলোচনার কাঠামো নির্ধারণ করা যাবে না।

মধ্যস্থতায় কাতারসহ আঞ্চলিক দেশগুলো

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় কাতারসহ কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে কাতারের পক্ষ থেকে যুদ্ধ বন্ধে একটি খসড়া প্রস্তাবও ইরানের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা প্রস্তাবটির বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এতে গ্রহণযোগ্য সমাধানের ভিত্তি পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা নতুন করে তেহরানে ফিরে গেছেন বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে। তাদের এ উদ্যোগের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা এগিয়ে নেওয়া। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং নৌ অবরোধ নিয়ে দুই পক্ষের মতবিরোধ এখনো বড় বাধা হয়ে রয়েছে। 

সংঘাত আবারও বাড়ার আশঙ্কা

কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হওয়ার লক্ষণ এখনো স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অন্যদিকে, ইরানও নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসতে অনিচ্ছুক।

এ অবস্থায় দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা না হলে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচল, ইরানের তেল রপ্তানি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর এর প্রভাব পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়ায় সেখানে অস্থিরতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে। 

সূত্র: রয়টার্স, ডন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

বাইন্যান্সে ৬৩০ কোটি ডলারের সাইবার হামলা, ক্রিপ্টো বাজারে ধস

বাইন্যান্সে ৬৩০ কোটি ডলারের সাইবার হামলা, ক্রিপ্টো বাজারে ধস

‘শর্ত না মানলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়’

‘শর্ত না মানলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়’

‘আমার ছেলে সাঁতার জানতো, সনদও ছিল; ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে’

তাহসিফের বাবা ‘আমার ছেলে সাঁতার জানতো, সনদও ছিল; ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে’

টেন্ডার ছাড়াই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুলের ইট ও টিন বিক্রির অভিযোগ

টেন্ডার ছাড়াই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুলের ইট ও টিন বিক্রির অভিযোগ

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App