×

খুলনা

বৃষ্টি মানেই ছুটি, ভবনহীন পাঁচভুলোট মাদ্রাসার করুণ চিত্র

Icon

শেখ কাজিম উদ্দিন, বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম

বৃষ্টি মানেই ছুটি, ভবনহীন পাঁচভুলোট মাদ্রাসার করুণ চিত্র

ছবি: সংগৃহীত

খুলনা বিভাগের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে সুনাম কুড়িয়েছে যশোর জেলার শার্শার পাঁচভুলোট দাখিল মাদ্রাসা। প্রতিবছর শতভাগ পাসের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে প্রতিষ্ঠানটি এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে চলেছে। অথচ প্রতিষ্ঠার ৪০ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো সরকারি কোনো ভবন জোটেনি মাদ্রাসাটির ভাগ্যে। জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরেই চলছে পাঠদান। আকাশে মেঘ জমলেই বৃষ্টি আর ঝড়ের আতঙ্কে ছুটির ঘণ্টা বাজাতে হয় দপ্তরিকে।

যশোরের সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শার ৬ নম্বর গোগা ইউনিয়নের পাঁচভুলোট গ্রামে অবস্থিত মাদ্রাসাটি ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রায় তিন যুগ আগে এমপিওভুক্ত হলেও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি প্রতিষ্ঠানটিতে।

বর্তমানে ইবতেদায়ী (প্রথম শ্রেণি) থেকে দাখিল (দশম শ্রেণি) পর্যন্ত পাঠদান চলছে এখানে। শিক্ষার্থী রয়েছে ৫৯২ জন। এর মধ্যে ইবতেদায়ী শাখায় ১৬২ জন এবং দাখিল শাখায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। শিক্ষক ও কর্মচারী থাকার কথা ২৬ জন হলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৯ জন। শিক্ষক সংকট কাটাতে এনটিআরসির মাধ্যমে নতুন শিক্ষক চেয়ে আবেদন করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরোনো টিনশেডের বিভিন্ন স্থানে মরিচা পড়ে ছিদ্র হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। অনেক সময় বই-খাতা বাঁচাতে শিক্ষার্থীদের বেঞ্চ সরিয়ে বসতে হয়। ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিলে আগেভাগেই ছুটি ঘোষণা করা হয়। আবার গ্রীষ্মকালে টিনশেড কক্ষগুলো অতিরিক্ত গরম হয়ে ওঠায় স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হয়। এজন্য সকালে ক্লাস নিতে বাধ্য হন শিক্ষকরা।

তবে নানা সংকটের মধ্যেও শিক্ষা কার্যক্রম থেমে নেই। প্রতিবছর দাখিল পরীক্ষায় শতভাগ পাসের কৃতিত্ব ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। এখান থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কলেজে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। অনেকে আবার চাকরিজীবনেও প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

পাঁচভুলোট গ্রামের প্রবীণ শিক্ষানুরাগী আব্দুল মজিদ সর্দার বলেন, “এই মাদ্রাসাটি এলাকার মানুষের গর্ব কিন্তু ভবনের অভাবে বছরের পর বছর শিক্ষার্থীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। দ্রুত একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা জরুরি।”

মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র মারুফ হাসান বলে, “বৃষ্টি হলে ক্লাস করা যায় না। অনেক সময় বই-খাতা ভিজে যায়। আবার গরমের সময় টিনশেডে বসে থাকতে খুব কষ্ট হয়।”

অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী তাসলিমা খাতুন জানায়, “প্রচণ্ড গরমে ক্লাস করতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। ভালো একটি ভবন হলে আমরা স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা করতে পারতাম।”

মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মো. আয়ুব আলী বলেন, “প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব কোনো ভবন নেই। শিক্ষকদের বসারও পর্যাপ্ত জায়গা নেই। ছোট একটি কক্ষে গাদাগাদি করে শিক্ষক-কর্মচারীদের বসতে হয়। কেউ কেউ বারান্দায় বসে কাজ করেন। আকাশে মেঘ দেখলেই আতঙ্ক তৈরি হয়।”

তিনি আরও বলেন, “একটি চারতলা ভবন নির্মাণ হলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ পাবে। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি, সরকার যেন দ্রুত প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত উন্নয়নে উদ্যোগ নেয়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ইয়াবা ও মাদক বিক্রির টাকাসহ আটক ১

ইয়াবা ও মাদক বিক্রির টাকাসহ আটক ১

ডিএনসির অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১

ডিএনসির অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১

৯ দিন বৃষ্টির আভাস

৯ দিন বৃষ্টির আভাস

বিপুল ভারতীয় মদসহ গ্রেপ্তার ১

বিপুল ভারতীয় মদসহ গ্রেপ্তার ১

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App