×

খুলনা

তিন দশকেও জাগেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ

আর্সেনিকের ঝুঁকিতে সাতক্ষীরার দুই গ্রাম

Icon

মসিউর ফিরোজ, সাতক্ষীরা

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম

আর্সেনিকের ঝুঁকিতে সাতক্ষীরার দুই গ্রাম

ছবি: ভোরের কাগজ

পান করার পানিতেই বিষ, অথচ সেই পানিই জীবন বাঁচানোর একমাত্র ভরসা! তিন দশক আগে আর্সেনিক শনাক্ত হলেও আজও নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা মেলেনি সাতক্ষীরার তালা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণকাটি ও আটঘরা গ্রামের মানুষের।

১৯৯৬ সালে প্রথম আর্সেনিক শনাক্ত হয় এই জনপদে। এরপর কেটে গেছে প্রায় তিন দশক। কিন্তু পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। নিরাপদ পানির পর্যাপ্ত উৎস না থাকায় এখনো অনেক পরিবারকে নির্ভর করতে হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ নলকূপের ওপর। কেউ আবার দূর—দূরান্ত থেকে সংগ্রহ করছেন লবণাক্ত পানি। বিশুদ্ধ পানির অভাবে প্রতিদিনই স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে জীবনযাপন করছেন কয়েক হাজার মানুষ।

দীর্ঘদিনের এই সংকটে স্থানীয়দের দাবি, গত ১৫ থেকে ২০ বছরে আর্সেনিকজনিত রোগে মারা গেছেন শতাধিক মানুষ। আক্রান্ত প্রায় ৫০০। একই পরিবারের ১২ সদস্যের মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে। কারও শরীরে আর্সেনিকের ক্ষত, কারও জীবনে চিকিৎসার ব্যয় আর পানির অনিশ্চয়তা। অথচ সংকট নিরসনে ওয়াটার প্ল্যান্ট স্থাপনের টেন্ডার হলেও শুরু হয়নি কাজ। পাইপলাইনে পানি সরবরাহের নতুন প্রকল্পের কথাও বলছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। কিন্তু প্রশ্ন একটাই—তিন দশকের এই জনস্বাস্থ্য সংকটের দায় নেবে কে?

এলাকাবাসি শফিকুল মোড়ল রহিমা বিবি সাজেদা বেগম রজব আলী সারমিন আক্তার মামুন ও ইমরান বলেন, গত দেড় থেকে দুই দশকে আর্সেনিকজনিত রোগে অন্তত শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কৃষ্ণকাটি গ্রামে একই পরিবারের ১২ সদস্যের মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে বলে জানান তারা। অনেক পরিবারের বসতভিটায় এখন আর বসবাস করার মতো কেউ অবশিষ্ট নেই। তবে এসব মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা ও কারণ নির্ধারণে সরকারি নথি, চিকিৎসা প্রতিবেদন এবং স্বতন্ত্র তদন্ত জরুরি।

সংকটের সবচেয়ে নির্মম চিত্র আক্রান্ত পরিবারগুলোতে। অনেকের শরীরে আর্সেনিকের দৃশ্যমান ক্ষত ও দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতা রয়েছে। আক্রান্তদের অভিযোগ, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিশেষায়িত চিকিৎসা এবং সরকারি সহায়তা থেকে তারা বঞ্চিত। কারা আক্রান্ত, কতজন চিকিৎসা পাচ্ছেন, কতজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে—এমন সমন্বিত তথ্যও তাদের কাছে স্পষ্ট নয়।

প্রশ্ন উঠেছে স্বাস্থ্য বিভাগের নজরদারি নিয়েও। দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত একটি আর্সেনিকপ্রবণ এলাকায় আক্রান্তদের হালনাগাদ তালিকা, নিয়মিত পরীক্ষা এবং চিকিৎসা কার্যক্রম কতটা কার্যকর—তা নিয়ে সন্তোষজনক জবাব চান ভুক্তভোগীরা।

সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ আর্সেনিক নিয়ে কোন কাজ আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগে হয় না। আগে এক সময় আমরা আর্সেনিক নিয়ে অনেক কাজ করছি কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় আর্সেনিক মুক্ত টিউবওয়েল স্থাপন করার পর প্রকোট অনেকটা কম। যারা আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়েছিল এরকম কোন তথ্য আমাদের কাছে নাই। যেকারনে এটা নিয়ে কাজ করি না।

অন্যদিকে, নিরাপদ পানি সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েও দেখা দিয়েছে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধির দাবি, এলাকায় প্রায় ৫শ মানুষ আর্সেনিক আক্রান্ত। সংকট মোকাবিলায় ওয়াটার প্ল্যান্ট স্থাপনের টেন্ডার সম্পন্ন হলেও এখনো শুরু হয়নি নির্মাণকাজ। কেন কাজ শুরু হয়নি, বরাদ্দ বা প্রশাসনিক জটিলতা কোথায়, কবে নাগাদ প্রকল্পটি চালু হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর মিলছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর অবশ্য পাইপলাইনের মাধ্যমে নিরাপদ পানি সরবরাহে বড় প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগের কথা জানিয়েছে। সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহিদ পারভেজের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির অনুমোদন, অর্থায়ন, বাস্তবায়ন এবং সম্ভাব্য সময়সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে পারেননি। তবে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের অপেক্ষায় থাকা মানুষের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপদ পানির ব্যবস্থা কী—সেই প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ।

তিন দশকের আর্সেনিক সংকট শুধু পানির সমস্যা নয়, এটি জনস্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক জবাবদিহিরও প্রশ্ন। কত মানুষ আক্রান্ত, কতজনের মৃত্যু হয়েছে, কতজন চিকিৎসার বাইরে—এসব তথ্য প্রকাশ করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। টেন্ডার ও প্রকল্পের প্রতিশ্রুতির বাইরে গিয়ে নিরাপদ পানি সরবরাহ, আক্রান্তদের চিকিৎসা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। কৃষ্ণকাটি ও আটঘরা গ্রামের মানুষের এখন একটাই দাবি—আর প্রতিশ্রুতি নয়, এবার নিরাপদ পানি চাই।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

দীপিকার পোশাক নিয়ে আপত্তি, শাহরুখকে বয়কটের হুঁশিয়ারি বিজেপি নেতার

দীপিকার পোশাক নিয়ে আপত্তি, শাহরুখকে বয়কটের হুঁশিয়ারি বিজেপি নেতার

রোহিত-স্মিথ নন, হাসানের সবচেয়ে প্রিয় শিকার বিরাট কোহলি

রোহিত-স্মিথ নন, হাসানের সবচেয়ে প্রিয় শিকার বিরাট কোহলি

এবার আক্রান্ত হলে ইউরোপজুড়ে ‘দাবানল’ সৃষ্টির হুঁশিয়ারি ইরানের

এবার আক্রান্ত হলে ইউরোপজুড়ে ‘দাবানল’ সৃষ্টির হুঁশিয়ারি ইরানের

জামায়াতকে রুখে দিতে না পারলে দেশে আরও একটি বিপর্যয় হবে

নুর জামায়াতকে রুখে দিতে না পারলে দেশে আরও একটি বিপর্যয় হবে

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App