চিফ প্রসিকিউটর
১/১১ তে তারেক রহমানকে ‘আয়নাঘরে’ বন্দি রাখা হয়েছিল
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ওয়ান-ইলেভেনের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঢাকা সেনানিবাসে ডিজিএফআইয়ের গোপন বন্দিশালা হিসেবে পরিচিত জেআইসি সেলে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকা সেনানিবাসে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) সদর দপ্তরের জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসি) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ দাবি করেন।
আমিনুল ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন তৎকালীন সরকার দেশে একটি অমানবিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। ভিন্নমতাবলম্বীদের দমন ও আটক রাখতে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত এসব গোপন বন্দিশালা ব্যবহার করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। সেখানে বহু মানুষকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখার তথ্যও পাওয়া গেছে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘এক-এগারোর সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ডিজিএফআইয়ের আয়নাঘরে বন্দি রাখা হয়েছিল। এ বিষয়ে আমরা পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পেয়েছি।’
তিনি জানান, এসব গোপন বন্দিশালা পরিচালনা এবং সেখানে নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তদন্তে নতুন কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।
জেআইসি সেলের আলামত নষ্টের অভিযোগ
৫ আগস্টের পর জেআইসি সেলের গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন আমিনুল ইসলাম। তার দাবি, বিভিন্ন জায়গায় দেয়াল নির্মাণ করে স্থাপনার কিছু অংশ আড়াল করা হয়েছে। পাশাপাশি বেশ কিছু তথ্য ও আলামতও ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র সব শর্ত মানলেই খুলবে হরমুজ প্রণালি: ইরান
ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শনের আইনি বৈধতা রয়েছে উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বিচারপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কোনো ঘটনার স্থান পরিদর্শন করা এবং সেখানে বিদ্যমান পরিস্থিতি ও আলামত সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এ ধরনের পরিদর্শন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
জেআইসি সেল পরিদর্শনে ট্রাইব্যুনালের বিচারকেরা
শনিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারকেরা ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত ডিজিএফআই সদর দপ্তরের জেআইসি সেলের কথিত গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন করেন।
ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজার নেতৃত্বে পরিচালিত এ পরিদর্শন দলে চিফ প্রসিকিউটর এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ঢাকার উত্তরায় র্যাব পরিচালিত একটি কথিত বন্দিশালা বা ‘গুমঘর’ও পরিদর্শন করেন ট্রাইব্যুনালের বিচারকেরা।
প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, র্যাব ও ডিজিএফআই পরিচালিত কথিত বন্দিশালায় মানুষকে গুম করে আটকে রাখার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
এসব মামলার বিচারপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করছেন ট্রাইব্যুনালের বিচারকেরা।
