সৌদিকে মার্কিন সেনা সরাতে বলল ইরান
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩৮ এএম
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ছবি : সংগৃহীত
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সৌদি আরবের উদ্দেশে বলেছেন, দেশটি থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরান সৌদি আরবকে ‘সম্মান’ করে এবং একটি ‘ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ’ হিসেবে বিবেচনা করে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, অঞ্চলে বহিরাগত শক্তির উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে। খবর বিবিসির।
আরাগচি বলেন, যারা আরব বা ইরানিদের সম্মান করে না, ইরানের সামরিক অভিযান মূলত সেই ‘শত্রু ও আগ্রাসনকারীদের’ বিরুদ্ধে পরিচালিত হচ্ছে। নিজের বক্তব্যকে জোরালো করতে তিনি পোস্টে ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি মার্কিন সামরিক বিমানের ছবিও যুক্ত করেন।
অন্যদিকে, চলমান পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানও স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত চার থেকে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।
আরো পড়ুন : ইরাকের একাধিক সেনা ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুরু থেকেই ধারণা দিয়ে আসছেন যে, ইরানে পরিচালিত অভিযান সীমিত সময়ের মধ্যেই শেষ করা সম্ভব হতে পারে। তবে পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে সময়সীমা পরিবর্তিতও হতে পারে।
ক্যারোলিন লেভিট দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে এবং তা ইতিবাচক অগ্রগতির দিকেই এগোচ্ছে। যদিও সামরিক প্রস্তুতি পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়নি, তবুও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রয়োজন হলে স্থল সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করা হয়নি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সংঘাত এড়াতে আলোচনা ও সমঝোতার পথই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান এবং সৌদি আরবকে ঘিরে নতুন বার্তা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরো বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যতের কূটনৈতিক সমীকরণেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
