যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় মূল প্রতিবন্ধকতাগুলো কী কী?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১৯ এএম
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতবিরোধ রয়ে গেছে। এসব জটিলতা কাটিয়ে ওঠা না গেলে যুদ্ধবিরতির পর পরিস্থিতি আবারও সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনায় অমীমাংসিত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর মধ্যে রয়েছে—
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি: দুই দেশের আলোচনায় প্রধান বাধাগুলোর একটি হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান সম্পূর্ণভাবে তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম বন্ধ করুক। তবে তেহরান বলছে, কোনো বিধিনিষেধ থাকলে তা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হতে হবে, স্থায়ীভাবে নয়।
ইউরেনিয়াম মজুত: আরেকটি বড় ইস্যু হচ্ছে ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, প্রায় ৪০০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে দিতে হবে। কিন্তু ইরান এ দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
আরো পড়ুন : চুক্তি না হলে ইরানে ফের হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
হরমুজ প্রণালি ইস্যু: হরমুজ প্রণালি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বন্দর অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত তারা ওই জলপথে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ বজায় রাখবে। অন্যদিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না।
জব্দকৃত সম্পদ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: ইরান তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে।
যুদ্ধ ক্ষতিপূরণ দাবি: ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় হওয়া ক্ষতির জন্য প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করছে।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে দুই পক্ষই সামরিক অবস্থান জোরদার করে। পরবর্তীতে সংঘাত এড়াতে ১৪ দিনের একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় তারা, যা ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে ইসলামাবাদে বৈঠক হলেও দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমাধানে পৌঁছানো যায়নি।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতোমধ্যে সতর্ক করে বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো চুক্তি না হলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে।
