প্রকৃতির রোষ আর প্রশাসনিক অবহেলা, কৃষকের ভাগ্য এখন অনিশ্চিত
খোরশেদ আলম, শেরপুর
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
শেরপুরে চলতি বোরো মৌসুমে বন্যহাতির তাণ্ডব, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, তীব্র লোডশেডিং এবং ডিজেল ও শ্রমিক সংকটে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। ধানের কম বাজারমূল্য, শ্রমিকের আকাশচুম্বী মজুরি এবং ব্যাংক ঋণের চাপে জেলার চাষিরা এখন দিশেহারা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, খাদ্যে উদ্বৃত্ত জেলা শেরপুরে এ বছর ৯১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। আবাদ সফল করতে জেলায় সেচ কাজে ২৯৮টি বিদ্যুৎচালিত গভীর নলকূপ এবং ১২ হাজার ২৫০টি ডিজেলচালিত অগভীর নলকূপসহ মোট ৩২ হাজার ৫১৪টি সেচযন্ত্র চালু রয়েছে। এ ছাড়া শতাধিক হারভেস্টার মেশিন মাঠে থাকলেও ডিজেল সংকটে অনেক যন্ত্রই অচল হয়ে পড়ে আছে।
মৌসুমের শুরুতেই কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টিতে আগাম জাতের বোরো ধান ও ভুট্টার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নিচু এলাকার পাকা ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে ধান কাটা ও মাড়াই। এর ওপর দেখা দিয়েছে তীব্র শ্রমিক সংকট। প্রতিদিন ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। বাজারে ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় অত্যন্ত কম।
জেলার সীমান্তবর্তী নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার প্রায় ৪০ কিলোমিটার পাহাড়ি এলাকায় বন্যহাতির তাণ্ডব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রতি রাতে বন্যহাতির দল কৃষকের আধপাকা ধান খেয়ে ও পা দিয়ে পিষে নষ্ট করছে। হাতির ভয়ে অনেক কৃষক আধপাকা ধানই ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে তারা সময়মতো জমিতে সেচ দিতে পারেননি। এমনকি প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। এই বহুমুখী সংকটে বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় চাষিরা।
তবে শেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (খামারবাড়ি) উপপরিচালক মো. শাকাওয়াত হোসেন এই সংকটের কথা কিছুটা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি জানান, বোরো মৌসুমে উল্লেখযোগ্য কোনো সংকট দেখা দেয়নি এবং ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে তিনি আশাবাদী।
