×

ময়মনসিংহ

‘শিয়াল-কুকুরের মতো মরতে চাই না, আমাদের জানাজা হোক’

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০২:১২ পিএম

‘শিয়াল-কুকুরের মতো মরতে চাই না, আমাদের জানাজা হোক’

ছবি: সংগৃহীত

‘আমরা চাই আমাদের মৃত্যু দেশে হোক। আমরা মুসলিম, আমরা চাই মৃত্যুর পরে জানাজা হোক। শিয়াল-কুকুরের মতো মরতে চাই না।’ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনে আটকা পড়ে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এভাবেই দেশে ফেরার আর্তনাদ জানিয়েছেন জামালপুর সদর উপজেলার গোদাশিমলা এলাকার যুবক আরমান আলী। ড্রোন কোম্পানি ও কনস্ট্রাকশন সাইটে উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাকেসহ বেশ কিছু বাংলাদেশি যুবককে যুদ্ধক্ষেত্রে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে ওই ভিডিও বার্তায় অভিযোগ করেন তিনি।

সম্প্রতি যুদ্ধক্ষেত্রের একটি অস্থায়ী ক্যাম্প থেকে গোপনে ধারণ করা আরমান ও তার সহযোদ্ধা মাইনউদ্দিনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। আরমান আলী জামালপুর সদর উপজেলার গোদা শিমলা এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে আরমানের বাবা রফিকুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে নিশ্চিত করেন, তার ছেলে বর্তমানে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ময়দানে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন।

ভিডিও বার্তায় আবেগতাড়িত কণ্ঠে আরমান আলী বলেন, ‘আমাদের ফোন নিয়ে নিছিল। আমাদের আলতু-ফালতু বুঝাইয়া বলছিল যে, আমাদের ড্রোন কোম্পানিতে কাজ দেবে, কনস্ট্রাকশন সাইটে কাজ দেবে। এসব কথাবার্তা বইলা আমাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠাই দিছে, আমাদের বিক্রি করে দিছে। ৩-৪ দিন ট্রেনিং করানোর পর আমাদের ফ্রন্টলাইনে পাঠানো হয়েছে। সেই ফ্রন্টলাইনটা হচ্ছে একদম জঙ্গলে, সেখানে মাটির নিচে গ্রেনেড থাকে, মাইন পোঁতা থাকে, উপরে ড্রোন থাকে। আমাদের মাছের টোপের মতো ব্যবহার করে। আমাদের ১৬ জনের ক্যাম্প থেকে ১২ জন মানুষ মারা গেছে। আমরা চারজন এখন জীবিত আছি, আমরা চারজনই আহত।’

আহত অবস্থায় ফ্রন্টলাইন থেকে ক্যাম্পে ফিরে আসার পর তাদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন আরমান। তিনি বলেন, ‘আহত হয়ে ফেরত আসার পর আমাদের ওই অবস্থায় আবার যাইতে বলে ফ্রন্টলাইনে যুদ্ধের জন্য। এখন আমরা যাই নাই বিধায় আমাদের মারধর করছে। মাটির নিচে বাংকারে আটকায়া রাখছে ৫ থেকে ৬ দিন। খাইতে দেয় নাই, পানি পর্যন্ত খাইতে দেয় নাই।’ ভিডিওর একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে বাংলাদেশ সরকার ও সর্বস্তরের জনগণের কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন জানান এই যুবক।

আরমান বলেন, ‘আমরা তো এই জীবন চাই নাই। আমরা আসছিলাম ছোটখাটো ডাল-ভাত খেয়ে বাঁচার জন্য। আমার বাড়িতে একটা পাঁচ মাসের ছোট্ট কন্যাসন্তান আছে। আমরা মুসলিম, চাই দেশে যাইয়া মরতে, যেন জানাজা হয়। এভাবে শিয়াল-কুকুরের মতো মরতে চাই না। প্লিজ, আমাদের রক্ষা করুন।’

এদিকে আরমানের এই ভিডিও বার্তাটি দেশে পৌঁছানোর পর জামালপুরের গোদা শিমলা এলাকায় তার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে চলছে মাতম। আরমানের বাবা রফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী পাঁচ মাসের সন্তানকে কোলে নিয়ে নির্বাক হয়ে পড়েছেন। একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে জীবিত অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের কাছে জোরালো এবং জরুরি কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন রফিকুল ইসলাম।

আরমানের বাবা রফিকুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমার ছেলের সঙ্গে আমার দুই দিন আগে সর্বশেষ কথা হয়ছে। এখন বর্তমানে যুদ্ধের ময়দানে আছে ওখানে। আমরা এমবাসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এমবাসি থেকে তারা বলছে- ওরা নাকি নিজ ইচ্ছায় সই (চুক্তিপত্র) করে গেছে। কিন্তু ওদের কাছ থেকে বন্দুক ঠেকিয়ে সই নিয়েছে ওখানকার সেনাবাহিনী। অথচ এমবাসি এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া দিতেছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ছেলে যুদ্ধক্ষেত্রে, আমরা, ছেলের মা রাতে ঘুমাইতে পারে না, সারাদিন কান্নাকাটি করে। আরমানের একটা পাঁচ মাসের বাচ্চা আছে। বাচ্চাটার নাম আরশি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতার বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই, যদি পরিবারের কেউ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, বিস্তারিত বললে আমি দেখব সে ক্ষেত্রে আমাদের সুযোগ রয়েছে কি না।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়েও উৎসব-আমেজে ভোট

প্রাথমিক বিদ্যালয়েও উৎসব-আমেজে ভোট

দেশজুড়ে টানা পাঁচ দিন বৃষ্টির আভাস

দেশজুড়ে টানা পাঁচ দিন বৃষ্টির আভাস

ঝাড়খণ্ডে বজ্রপাতে প্রাণ গেল ৮ জনের

ঝাড়খণ্ডে বজ্রপাতে প্রাণ গেল ৮ জনের

ফুটবল উন্মাদনায় এবার ‘ব্রাজিল-চুড়ি’

ফুটবল উন্মাদনায় এবার ‘ব্রাজিল-চুড়ি’

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App