দুই বছর পর সংযোগ সড়ক পেল কোটি টাকার সেতু
মোস্তাক আহমেদ মনির, সরিষাবাড়ী (জামালপুর)
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম
ছবি : ভোরের কাগজ
অবশেষে দুই বছরের অপেক্ষার অবসান হলো। জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ঘুইঞ্চার চরের কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে এতদিন ব্যবহারহীন থাকা সেতুটি এখন স্থানীয়দের চলাচলের উপযোগী হয়েছে এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে ‘গ্রামীণ রাস্তায় সেতু/কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প’-এর আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উপজেলার আওনা ইউনিয়নের দুর্গম ঘুইঞ্চার চরে যমুনা নদীর শাখার ওপর ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি গার্ডার সেতু নির্মাণ করা হয়।
তবে নির্মাণের দুই বছর পার হলেও সেতুর দুই পাশে কোনো সংযোগ সড়ক না থাকায় এটি স্থানীয়দের কোনো কাজে আসছিল না। কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতসহ দৈনন্দিন চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো এলাকাবাসীকে। বিশেষ করে বর্ষা ও বন্যা মৌসুমে অনেককে গামছা পরে নদী পার হতে হতো বলেও জানান স্থানীয়রা।
পরে বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম এমপির নজরে এলে তাঁর নির্দেশনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আফসানা এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শওকত জামিলের তত্ত্বাবধানে সেতুর দুই পাশে প্রায় ১ হাজার ৮০০ ফুট সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়। এতে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেয়েছেন চরাঞ্চলের মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দা আজাহার আলী, মোকাদ্দেস হোসেন, জহুরা বেগম ও আলী আকবর বলেন, “এতদিন সেতুটি আমাদের কোনো কাজেই লাগেনি। সেতুতে ওঠার মতো কোনো রাস্তা ছিল না। নিচ দিয়ে ফসলের আইল ধরে চলাচল করতে হতো। পানি বাড়লে গামছা পরে হেঁটে কিংবা নদী সাঁতরে পার হতে হয়েছে। নারীদেরও পানিতে নেমে চলাচল করতে হতো। এখন রাস্তা হওয়ায় আমরা খুবই খুশি। আমাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমেছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আফসানা বলেন, “সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি প্রথম আমাদের নজরে আসে। পরে সরেজমিনে তদন্ত করে এলাকাবাসীর ভোগান্তির বিষয়টি নিশ্চিত হই। এরপর এমপি মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এখন স্থানীয় মানুষ নির্বিঘ্নে সেতুটি ব্যবহার করতে পারছেন।”
